রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন শর্ত দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেন যদি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল ছেড়ে দেয়, তবে রাশিয়া লড়াইয়ের অন্য ফ্রন্টে অগ্রযাত্রা বন্ধ করবে। এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বিগ্ন করেছে।
সমঝোতার প্রস্তাবে ট্রাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ সমর্থন, গত সপ্তাহে আলাস্কার আ্যাঙ্কোরেজ শহরে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পর বিষয়টি সামনে আসে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন দনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিলে শান্তিচুক্তি সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের সমাধানকে অনেকেই ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি মনে করছেন।
দনবাস অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু।
লুহানস্ক প্রায় পুরোপুরি রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দোনেৎস্কের ক্রামাতোর্স্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহর এখনো ইউক্রেনের হাতে রয়েছে। এসব শহর রক্ষায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। পুতিনের দাবি অনুযায়ী, দনবাস ত্যাগের বিনিময়ে রাশিয়া খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে অগ্রযাত্রা থামাবে।
সমঝোতার প্রস্তাবে ট্রাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ সমর্থন নিয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে সরাসরি শান্তিচুক্তিই উত্তম, কারণ যুদ্ধবিরতি প্রায়ই টেকসই হয় না। তবে তাঁর এই অবস্থানকে ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র কিয়েভেরই রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত বলপ্রয়োগে পরিবর্তন করা যাবে না।
আগামীকাল ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সেখানে ইউরোপীয় নেতারাও যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈঠকের আগে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া সরাসরি শান্তিচুক্তি করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তিনি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য শর্তগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
এদিকে, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা বৈঠকের আগে জেলেনস্কির সঙ্গে অনলাইনে আলোচনা করছেন। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

আলিফ ইসলাম
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫ । ১১:০৩ অপরাহ্ণ