নির্বাচনেও উপেক্ষিত প্রতিবন্ধীরা

নির্বাচনেও উপেক্ষিত প্রতিবন্ধীরা
আলিফ ইসলাম
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

সরকারি হিসাবে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রতিবন্ধী নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ২০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৮ জন। কিন্তু ভোটের প্রস্তুতি কার্যক্রম যতই গতি পাচ্ছে, প্রতিবন্ধী ভোটাররা ততই অভিযোগ করছেন—তাদের অধিকার ও অংশগ্রহণ এখনো উপেক্ষিত।

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে নেই প্রতিবন্ধীদের অধিকার

২০২৫ সালের নির্বাচনেও উপেক্ষিত প্রতিবন্ধীরা  নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের খসড়া প্রতিবেদনে প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়ে আলাদা প্রস্তাব রাখা হলেও, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভোট প্রক্রিয়া সহজ করার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এ কারণে অধিকারকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি—ভোটকেন্দ্রগুলোকে সহজপ্রবেশযোগ্য করা, ব্রেইল বা অডিও সুবিধা রাখা, এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কোটা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী ভোটারদের বাস্তব অভিজ্ঞতা 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তফসারুল্লাহ জানান, নির্বাচনেও উপেক্ষিত প্রতিবন্ধীরা ও তিনি ২০২৪ সালে ভোটার হলেও জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টরা অনেক সময় নিজেরাই ব্যালটে টিক দেন, যা ভোটারের স্বাধীন মত প্রকাশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অন্যদিকে নাজমা বেগম, যিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, ২০০১ সালে প্রথম ভোট দিলেও এরপর মাত্র একবার ভোট দিয়েছেন। তার মতে, ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত বড় সমস্যা। বিশেষ করে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য দূরের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, কেন্দ্রগুলো সাধারণত প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য সহজ প্রবেশের সুযোগ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বা অডিওভিত্তিক ভোটিং ব্যবস্থা, এবং বাকপ্রতিবন্ধীদের জন্য ইশারা ভাষা দোভাষী রাখা জরুরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে এসব এখনো নেই।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধীদের অধিকার অন্তর্ভুক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে তারা কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধিত্বের দাবি

অধিকারকর্মীরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনে অন্তত দুইজন প্রতিবন্ধী নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সালমা মাহবুব, যিনি একসময় সংসদে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, জানান—প্রতিবন্ধী নারী প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ তারা নির্বাচিত হলে সরাসরি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে পারতেন।

২০১৮ সালের অভিজ্ঞতা ও নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য


২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনেও উপেক্ষিত প্রতিবন্ধীরা  প্রায় ৩০ লাখ প্রতিবন্ধী ভোটার তালিকাভুক্ত হলেও মাত্র ১০ শতাংশ ভোট দিতে পেরেছিলেন। এ প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, প্রতিবন্ধীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কমিশনের মনোযোগ খুবই সীমিত। তিনি মনে করেন, প্রতিবন্ধীদের ভোট দেওয়ার জন্য বিকল্প পরিবহন বা বিশেষ সুবিধা রাখা যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে এসে যারা উপস্থিত হবেন, তাদের ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।”

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন