জিআই স্বীকৃতি পেল ফুলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আখ থেকে তৈরি ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি এখন ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রায় আড়াই শ’ বছরের পুরোনো এই শিল্প স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের কৃষি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। শরবত, পিঠা ও মিষ্টান্ন তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত এই মিহি দানার লাল চিনির খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, জিআই স্বীকৃতির বিষয়টি তারা ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ১১ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলবাড়িয়ার লাল চিনির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। কোনো পক্ষ আপত্তি না করায় সব প্রক্রিয়া শেষে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছি। ইতোমধ্যে সরকারের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সনদের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই স্বীকৃতির মাধ্যমে লাল চিনির পরিচিতি ও চাহিদা আরও বাড়বে। কৃষকেরা উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন এবং সরকারের সহযোগিতাও বৃদ্ধি পাবে। অর্গানিক পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা গেলে চাষিদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
লাল চিনি উৎপাদনের ঐতিহ্য
জিআই স্বীকৃতি পেল ফুলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়ার বাকতা, কালাদহ ও রাধাকানাই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের কৃষকরা আখ উৎপাদন ও লাল চিনি তৈরিতে যুক্ত। প্রতিবছর উপজেলায় শতকোটি টাকার লাল চিনি বিক্রি হয়ে থাকে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জমি থেকে আখ সংগ্রহের পর তা পরিষ্কার করে কলের মাধ্যমে রস বের করা হয়। এরপর জ্বালঘরের চুলায় লোহার কড়াই বসিয়ে ধাপে ধাপে রস ঘন করা হয়। কাঠের মুগুর দিয়ে নাড়াচাড়া করে বাদামি রঙের লাল চিনি তৈরি করা হয়। শুকনো গুঁড়োর মতো কিংবা দানার আকারে সংরক্ষণ করা হয় এই চিনি। সাধারণত চৈত্র মাসে আখ রোপণ করা হয় এবং পৌষ মাস থেকে শুরু হয় আখ কাটার মৌসুম। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলে লাল চিনি উৎপাদনের কাজ।
জিআই স্বীকৃতি পেল ফুলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি ২০২৫ সালে উপজেলায় প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ জমিতে দেশি জাতের আখ, বাকি জমিতে ঈশ্বরদী-৪১ ও ঈশ্বরদী-৪২ জাতের আখ চাষ হয়। এক হেক্টর জমির আখ থেকে প্রায় আট মেট্রিক টন লাল চিনি উৎপাদিত হয়। গড়ে প্রতি মণ লাল চিনি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর কৃষকেরা প্রায় ১০৮ কোটি টাকার লাল চিনি বিক্রি করেছেন।
প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ায় লাল চিনির স্বাদ কাঁচা আখের রসের মতো। শরবত, মিষ্টান্ন ও পিঠায় ব্যবহার করলে এর অনন্য স্বাদ পাওয়া যায়। দেশীয় বাজার ছাড়াও বিদেশে এর চাহিদা বাড়ছে বলে কৃষকেরা জানান।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর ইসলাম বলেন, “লাল চিনির জিআই স্বীকৃতি পাওয়া এ অঞ্চলের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। এটি কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫ । ১১:৩৬ অপরাহ্ণ