বেনাপোল বন্দরে আল আরাফাত সিকিউরিটির বিরুদ্ধে ঘুষ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

বেনাপোল বন্দরে আল আরাফাত সিকিউরিটির বিরুদ্ধে ঘুষ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫ । ১১:০৮ অপরাহ্ণ

বেনাপোল বন্দরে আল আরাফাত সিকিউরিটির বিরুদ্ধে ঘুষ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল আরাফাত সিকিউরিটি সার্ভিস–এর বিরুদ্ধে ঘুষ ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ আল আমিন শিকদারকে এসব অনিয়মের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৪৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ইনচার্জ আমিন শিকদার স্থানীয় দরিদ্র যুবকদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

💰 নিয়োগ ও ছুটির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 

বেনাপোল বন্দরে আল আরাফাত সিকিউরিটির বিরুদ্ধে ঘুষ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পেলে আল আমিন শিকদার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সুপারভাইজার মিলে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছেন বলে জানা গেছে। তারা পুরনো কর্মীদের বিভিন্ন অজুহাতে বাদ দিয়ে নতুনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিয়োগ দিচ্ছেন। এমনকি ছুটিতে গেলে প্রতিদিনের বেতন (প্রায় ৩০০ টাকা) কেটে নিজেদের পকেটে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“চাকরি দিতে ২০–৩০ হাজার টাকা নেয়া হয়। মাসে ছুটির টাকা থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মতো ইনচার্জ ও সুপারভাইজারদের হাতে যায়।”

সম্প্রতি তানিয়া নামে এক নারীকে ২০ হাজার টাকায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ে না দিতে পারায় তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

 সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ৯ হাজার টাকার মাসিক বেতনে কর্মরত কিছু সুপারভাইজার বেনাপোলে জমি ও এফডিআর করেছেন। একজন সুপারভাইজার সাদিপুর এলাকায় ৩৫ লাখ টাকায় জমি কিনেছেন বলে জানা গেছে, যা প্রশ্ন তুলেছে তাদের আয়ের উৎস নিয়ে।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান

অভিযোগের বিষয়ে ইনচার্জ আল আমিন শিকদার বলেন,

“গেট থেকে কোনো টাকা তোলা হয় না। তানিয়ার টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান,

“অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্তে প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তদন্তের দাবি

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি এই নিয়োগ ও অর্থ বাণিজ্যের তদন্ত করে, তাহলে প্রকাশ পাবে আল আরাফাত সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন