গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
রোম , "ইতালি"
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ । ১১:১৭ অপরাহ্ণ

গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস:

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম প্রমাণ করেছে—দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।”

ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব খাদ্য ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ দানোন শিশুখাদ্য দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে কাজ করছে। একইভাবে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা অসংখ্য সামাজিক ব্যবসা (Social Business) উদ্যোগ সমাজ ও মানুষকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিচ্ছে।


তরুণ ও নারীদের জন্য সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

“এখন সময় এসেছে তরুণ, নারী, কৃষক এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জন্য একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গড়ে তোলার। এজন্য এমন একটি আইনি ও আর্থিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা বাধামুক্তভাবে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তরুণরা জনগণের অংশগ্রহণে এক সফল সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে সেই তরুণ প্রজন্মই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

ড. ইউনূস জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা হবে ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণের ক্ষমতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।


বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অগ্রগতি

গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

“বাংলাদেশের আয়তন ইতালির প্রায় অর্ধেক হলেও ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য যোগান সরকার সফলভাবে নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ, এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধান, শাকসবজি ও মিঠাপানির মাছ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

বাংলাদেশি কৃষকরা জমির ফসল ফলানোর হার ২১৪ শতাংশে উন্নীত করেছেন। ইতোমধ্যে ১৩৩টি জলবায়ু-সহনশীল ধানজাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণে বিপ্লব ঘটেছে।


ক্ষুধা কোনো অভাবের নয়, নৈতিক ব্যর্থতার ফল

অধ্যাপক ইউনূস ক্ষুধাকে কেবল খাদ্যের অভাব নয় বরং অর্থনৈতিক ও নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন,

“২০২৪ সালে বিশ্বে ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল। অথচ পৃথিবী যথেষ্ট খাদ্য উৎপাদন করছে। এটি উৎপাদনের সমস্যা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক ব্যর্থতা। যখন আমরা ক্ষুধা দূর করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার জোগাড় করতে পারি না, তখনই ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার অস্ত্র কেনায় ব্যয় করি—এটাই কি আমাদের অগ্রগতির সংজ্ঞা?”


মূল বার্তা

ড. ইউনূসের বক্তব্যে উঠে এসেছে—সামাজিক ব্যবসা, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি উদ্ভাবন ও নৈতিক অর্থনীতির মধ্য দিয়েই ক্ষুধামুক্ত ও টেকসই সমাজ গড়া সম্ভব।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন