পাবনায় সংঘর্ষে গুলির ছবি ভাইরাল—‘সে বিএনপি’, ‘না সে জামায়াত’! দু’পক্ষের দাবি সাংঘর্ষিক
পাবনা: ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে এক যুবকের গুলি ছোড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা টি–শার্ট ও জিনস পরিহিত এক যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছুড়ছেন। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পরই দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে শুরু হয় অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ।
বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানান
গুলি ছোড়া যুবকের নাম তুষার হোসেন, যিনি নাকি ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জামায়াত–শিবিরের কর্মী। তাঁদের দাবি—তুষারের গুলিতে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, পাবনা–৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা আমির আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জামায়াত কখনো অস্ত্রের রাজনীতি করে না। আমাদের কোনো কর্মীর কাছেই অস্ত্র ছিল না। বরং বিএনপি আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে।”
এদিকে ঘটনার পর দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ করে
। ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূর জানান, “বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, চরগড়গড়ি এলাকায় কয়েক দিন ধরেই দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুই দিন আগে ছোটখাটো হাতাহাতির পর বৃহস্পতিবার তা বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি গুলি ছোড়া হয় এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ । ৮:৩৪ অপরাহ্ণ