শহীদ ওসমান হাদির নামে নলছিটি লঞ্চঘাট- জন্মভূমিতে অমর স্মৃতি

শহীদ ওসমান হাদির নামে নলছিটি লঞ্চঘাট- জন্মভূমিতে অমর স্মৃতি
নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

শহীদ ওসমান হাদির নামে নলছিটি লঞ্চঘাট- জন্মভূমিতে অমর স্মৃতি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে। জন্মস্থান ও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এই লঞ্চঘাটের নামফলকে এখন থেকে লেখা থাকবে— “শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি লঞ্চঘাট”।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল বিআইডব্লিউটির নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদির জীবনসংগ্রাম, বেড়ে ওঠা ও এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে নলছিটি লঞ্চ টার্মিনালের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আমজাদ হোসেন বলেন, “নলছিটি ছিল শহীদ ওসমান হাদির জন্মস্থান। এখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই লঞ্চঘাটের সঙ্গে তার জীবনের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িত। সে কারণেই লঞ্চঘাটের নাম তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টার্মিনালের সংস্কার ও রংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী রোববার নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন লঞ্চঘাট পরিদর্শনে আসবেন।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নলছিটি লঞ্চঘাট ছিল ওসমান হাদির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লঞ্চঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে তার পৈতৃক বাড়ি। ছোটবেলায় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানুষের যাতায়াত দেখা, লঞ্চের ভিড়ে সময় কাটানো—এসব স্মৃতির নীরব সাক্ষী ছিল এই ঘাট।

লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী রব হাওলাদার বলেন, “আমরা চাইছিলাম হাদির স্মরণে এমন কিছু হোক, যা যুগের পর যুগ মানুষ মনে রাখবে। তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এই লঞ্চঘাটের নাম তার নামে হওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”

আরেক ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম ফকির বলেন, “হাদিকে আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। সে এই এলাকারই সন্তান। আজ তার নামে ঘাটের নামকরণ হওয়ায় আমরা সত্যিই গর্বিত।”

প্রতিবেশী বেলায়েত হোসেন নান্নু বলেন, “হাদি মানেই এই ঘাট, এই নদী, এই মানুষ। লঞ্চঘাটের নাম তার নামে হওয়া মানে, সে এখানেই চিরদিন বেঁচে থাকবে।”

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরবর্তীতে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকট তাকে দাফন করা হয়।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন