পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত পুঠিয়ার কৃষক

পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত পুঠিয়ার কৃষক
মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৮:১৮ অপরাহ্ণ

পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত পুঠিয়ার কৃষক

তীব্র শীতের মধ্যেও পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই চারা হাতে মাঠে নেমে পড়ছেন তারা। কোথাও চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণ, আবার কোথাও জমি থেকে পেঁয়াজ উত্তোলনের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে।

সরেজমিনে পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। শীত ও পরিশ্রমের ক্লান্তি ভুলতে মাইক বাজিয়ে গানের তালে তালে পেঁয়াজ রোপণ করছেন কৃষকেরা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নাচ-গানের মধ্য দিয়ে কাজ করায় শ্রমিকদের মাঝে বাড়ছে উৎসাহ, একই সঙ্গে দ্রুত এগোচ্ছে মাঠের কাজ।

এছাড়া ভাল্লুকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, কাদাপানি মাড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। শীতের কারণে কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিলেও জীবিকার তাগিদে থেমে নেই কৃষিকাজ।

কান্তার বিলের কৃষক সোহাগ, নাহিদসহ কয়েকজন জানান, শীত মৌসুমে অনেক শ্রমিক মাঠে কাজ করতে আগ্রহী হন না। তাই সবাইকে উৎসাহিত রাখতে একসঙ্গে গান বাজিয়ে কাজ করছেন তারা। এতে পরিশ্রমের ক্লান্তি অনেকটাই কমে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

পেঁয়াজ রোপণে নিয়োজিত একটি শ্রমিক দলের গ্রুপ প্রধান রকিবুল ইসলাম ফারুক জানান, তার দলে ১৪ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রতিদিন গড়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে। চলতি মৌসুমে তার দল ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণের কাজ সম্পন্ন করেছে।

একদিকে যখন চারা রোপণ চলছে, অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মুড়িকাটা ও ঢেমনা জাতের পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। শীত মৌসুমে পুঠিয়ায় দেশি ও উন্নত জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলনের আশা করছেন বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকেরা।

বানেশ্বর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোতালেব হোসেন ৪ বিঘা, মনসুর আলী ২ বিঘা এবং আশরাফ আলী ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পুঠিয়া কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেছেন।

কৃষকদের মতে, মুড়িকাটা জাতের তুলনায় এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজে লাভ বেশি। প্রতিটি পেঁয়াজের গড় ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম হওয়ায় চার থেকে পাঁচটি পেঁয়াজেই এক কেজি ওজন হয়।

চাষি মনসুর আলী জানান, এক বিঘা জমি থেকে ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১০০ মন পেঁয়াজ উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন। প্রতি মন পেঁয়াজ ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাকি জমি থেকে আরও প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ উত্তোলনের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ চাষে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর পেঁয়াজে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩৩০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন