নতুন না পুরনো—লালমনিরহাটের তিন আসনে ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন?
সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটের তিনটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে পুরনো মুখের পাশাপাশি নতুন প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটের মাঠকে করেছে বেশ আলোচিত। তিনটি আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের বড় একটি অংশই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
পুরনো প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র দুজনের সংসদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, বাকিদের জন্য এবারের নির্বাচন একেবারেই নতুন চ্যালেঞ্জ।
লালমনিরহাট-১: অভিজ্ঞতা নাকি মাঠের রাজনীতি?
হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধান ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার জন্মস্থান এই এলাকা হলেও তিনি মূলত রংপুরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে এই আসনে তিনি কার্যত নতুন মুখ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও এই আসনে নতুন হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও রাঙ্গার জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। বরং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করা বিএনপি প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধান কিংবা স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত হয়ে ওঠা জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর প্রতি ভোটারদের ঝোঁক বেশি।
লালমনিরহাট-২: নতুন মুখেই ভরসা?
কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনেও প্রার্থী সংখ্যা সাতজন। বিএনপির রোকন উদ্দিন বাবুল ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি আদিতমারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম কামাল নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন ‘জনতার দল’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
জাতীয় পার্টির এলহান উদ্দিনসহ বাকি প্রার্থীরাও প্রায় সবাই নতুন মুখ। এই আসনের ভোটারদের বক্তব্য, তারা নতুন বা পুরনো বিবেচনায় নয়, বরং যোগ্যতা ও এলাকার উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখেই ভোট দিতে চান।
কালীগঞ্জের দলগ্রাম এলাকার ভোটার রাকিব ইসলাম বলেন,
“আমরা নতুন-পুরনো দেখে ভোট দেব না। যিনি এলাকার জন্য কাজ করবেন, মানুষের পাশে থাকবেন—তাকেই ভোট দেব।”
লালমনিরহাট-৩: অভিজ্ঞতার দিকেই ঝোঁক
লালমনিরহাট পৌরসভা ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহিদ হাসান ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। জামায়াতসহ বাকি চারজন প্রার্থী এই আসনে নতুন মুখ।
এই আসনের ভোটারদের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, সংসদীয় অভিজ্ঞতা থাকা প্রার্থী নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে একাংশ ভোটার আবার পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়ে নতুন প্রার্থীদের দিকেও নজর রাখছেন।
সব মিলিয়ে লালমনিরহাটের তিনটি আসনেই এবারের নির্বাচন নতুন-পুরনোর সমীকরণে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক চিত্র তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৯:৩৭ অপরাহ্ণ