নীতি-নৈতিকতার চরম অবক্ষয়; অস্থিরতা ও বিতর্কে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এখন জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশের বদলে ক্যাম্পাসগুলোতে এখন আলোচনা হচ্ছে গভীর রাতের বিশৃঙ্খলা, শ্লীলতাহানি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নৈতিক স্খলন নিয়ে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শোরগোল
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা গেছে। রাত ১১টা থেকে ১২টা পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে উচ্চশব্দে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে পার্টি চলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাম্পাসে গভীর রাত পর্যন্ত এমন আওয়াজ অসুস্থ রোগী ও সাধারণ মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় গভীর রাতেও শিক্ষার্থীদের এমন বেপরোয়া আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির ভূমিকা নিয়ে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী লাঞ্ছনার ছায়া
সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যা একসময় সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমানে সেখানে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি বহিরাগত এক নারীকে ক্যাম্পাসে এনে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে চলে এসেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো থাকা এবং প্রক্টরিয়াল বডির নির্লিপ্ততার কারণেই ক্যাম্পাস এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর চিত্র
শুধু এই দুটি প্রতিষ্ঠানই নয়, দেশের অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয়েও অস্থিরতা বিরাজমান:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রীদের হেনস্তা এবং সিট বাণিজ্য নিয়ে অস্থিরতা কাটছেই না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: গত কয়েক মাসে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং ছোটখাটো চুরির ঘটনা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র সংবাদ শিরোনাম হয়েছে বারবার।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবই এই অবস্থার প্রধান কারণ। ছাত্র রাজনীতি যখন কল্যাণের বদলে পেশীশক্তিতে রূপান্তরিত হয়, তখন শিক্ষার পরিবেশ এমন ‘নষ্টামিতে’ ভরে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
অভিভাবকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। অন্যথায় দেশের এই শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলো কেবল বিশৃঙ্খলার কারখানায় পরিণত হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬ । ১:৩১ অপরাহ্ণ