পাবনায় প্রতারণা মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রতারণার মামলায় বিএনপির এক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার পাবনার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহ-সভাপতি সোহেল রানা। শুনানি শেষে বিচারক বেবী নাজনীন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল সোহেল রানার বিরুদ্ধে। ভিজিডি কার্ড, গভীর নলকূপ, স্যানিটারি ল্যাট্রিন এবং সরকারি আবাসন প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার রাতে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ক্ষুব্ধ জনতা সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরদিন শনিবার প্রতারণার শিকার দাবি করে ৩৫ জন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন মোড় নেয়। বিএনপি নেতা সোহেল রানার স্ত্রী শিখা খাতুন পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে মামলা করেন।
সাংবাদিক মাসুদ রানা দৈনিক কালের কণ্ঠের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং ভাঙ্গুড়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য, ভিডিও ফুটেজ ও অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। শুধু একটি সংবাদমাধ্যম নয়, দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমেও একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন,
প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা এবং তাকে পেশাগতভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই মামলা দায়ের করেছে।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ভাঙ্গুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব উল আলম বাবলু এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ফারুকসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে এমন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত এই মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ । ৯:২৮ অপরাহ্ণ