কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণে সরাইল – নাসিরনগর – হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক।

কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণে সরাইল - নাসিরনগর - হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক
খ,ম,জায়েদ হোসেন ( নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) 
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ । ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণে সরাইল – নাসিরনগর – হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক।

অবহেলা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে হবিগঞ্জ-নাসিরনগর-সরাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪ লেন প্রকল্প।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া -১ নাসিরনগর সংসদীয়  ২৪৩ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা এম এ হান্নান এমপি এর যৌথ
প্রচেষ্টায় সড়কটি নির্মাণে ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে উদ্যোগটি সম্পন্ন হলে বদলে যাবে নাসিরনগর- সরাইল ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ও জীবনমান। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট সড়কপথে যাতায়াতে কমবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব।
গত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নাসিরনগর – সরাইল- হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করণের জন্যে জোরালো বক্তব্য পেশ করেছিলেন।

হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, লাখাই ও নাসিরনগর সীমান্তে বলভদ্র নদীর ব্রিজ থেকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের আওতায় আনা হয়েছে। এতে মোট ৬১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে ৩৯৬ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন স্থানান্তরে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। চারটি পৃথক প্যাকেজে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে এ সড়ক সম্প্রসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নির্বাচন করা হলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আটকে যায়। এক পর্যায়ে প্রকল্পটি বাতিল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জেলাবাসীর বিক্ষোভ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেওয়াসহ আন্দোলনের মুখে তা ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সড়কটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন জেলাবাসী।
গত সংসদ নির্বাচনের আগেই জি কে গউছ সড়কটি অগ্রাধিকার প্রকল্পে নেয়ার আশ্বাস দেন। নির্বাচিত হয়ে গত ১২ এপ্রিল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে ডিও দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী সড়কটি উন্নয়নের জন্য ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

স্থানীয়রা জানান, সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্পখাতের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এখন দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

জি কে গউছ বলেন, গত নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ সড়কটি আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার প্রকল্পে নিই। অবশেষে কাজটি আলোর মুখ দেখাতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ মাত্র সাড়ে ৫ মিটার হওয়ায় যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। সড়কটি ১০ দশমিক ৩০ মিটার প্রশস্তকরণসহ উন্নয়ন করা হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে। কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এ অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। এ সড়ক ব্যবহার করলে হবিগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেটের সঙ্গে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে যায়।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন