হালুয়াঘাটের যুবক ভারতে বিএসএফের হাতে আটক পতাকা বৈঠক চলছে ফিরিয়ে আনার বিজিবির সর্বোচ্চ চেষ্টা।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৭ নং শাকুয়াই ইউনিয়নের কাউচিয়া গ্রামের এক যুবক ভুলবশত সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে গিয়ে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে আটক হয়েছেন। আটক যুবক ওই এলাকার আফসার উদ্দিনের (আচু ভাই) ছেলে। তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফ-এর মধ্যে বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে পতাকা বৈঠক (ফ্ল্যাগ মিটিং) চলছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকার একজন সচেতন নাগরিক বিষয়টি প্রথমে আটক যুবকের মামা মো. সম্রাটকে ফোনের মাধ্যমে জানান। পরবর্তীতে যুবকের পরিবার ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত তৎপরতা শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ ব্যাটালিয়ন বিজিবির সেক্টর কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করেন।
যোগাযোগ করা হলে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার যুবকের পরিবারকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে এবং অন্য কোনো আইনি জটিলতা না পাওয়া গেলে বিজিবি ওই যুবককে ফিরিয়ে এনে নিজ হেফাজতে গ্রহণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
এদিকে সার্বিক বিষয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ৭ নং শাকুয়াই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউনুস আলী খান। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যুবকের পরিচয় নিশ্চিতকরণসহ সব ধরনের দাপ্তরিক তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
যুবকটি কীভাবে বা কার মাধ্যমে সীমান্ত পার হলো, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। যুবকের বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, ছেলেটি বাড়ি থেকে কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। কিন্তু কক্সবাজার থেকে সে কীভাবে, কার মাধ্যমে বা কোন পরিস্থিতিতে হঠাৎ সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে গেল—সে বিষয়ে পরিবার এখনো পরিষ্কারভাবে কিছুই বলতে পারছে না।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও উদ্বেগের মাঝে একটি স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। ইউটিউবে প্রচারিত একটি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, আটক যুবকটি সেখানে বসে রুটি ও কলা খাচ্ছে। এই দৃশ্যটি দেখে পরিবার ও এলাকাবাসী অন্তত এতটুকু নিশ্চিত হয়েছেন যে, সে বর্তমানে শারীরিকভাব সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে।
যেহেতু বর্তমানে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তাই যুবকের পরিবার ও স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোথাও কোনো ধরনের মনগড়া তথ্য বা গুজব না ছড়াতে এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। যুবকের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

আরিফ আহম্মেদ ( ময়মনসিংহ)
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ । ১১:৩৫ অপরাহ্ণ