শরিয়তপুর সখিপুর পারকিয়া ঘটনাপাল্টায় পাল্টি মামলা

শরিয়তপুর সখিপুর পারকিয়া ঘটনাপাল্টায় পাল্টি মামলা
বিএম মাসুম (শরিয়তপুর)
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ । ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

শরিয়তপুর সখিপুর পারকিয়া ঘটনাপাল্টায় পাল্টি মামলা

শরীয়তপুর সখিপুরে এক গৃহবধূর দায়ের করা ধর্ষণ মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় স্বামী কবির গাজীসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বামী কবির গাজী ও অপর আসামি লাভলী বেগম কারাগারে রয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিযুক্তের পরিবার ও সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের দাবি, পরকীয়া সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর প্রতিহিংসাবশত এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফলে মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সখিপুর থানার চরসেনাস ইউনিয়নর খালাশিকান্দি গ্রামের সাত্তার গাজীর ছেলে কবির গাজীর সঙ্গে ২০১৫ সালে পারিবারিকভাবে আকলিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৭ ও ৩ বছর বয়সী দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে আকলিমা আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার ব্যবসায়ী রুপচান কাজীর ছেলে শাকিল কাজীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষকে সতর্ক করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এরপরও আকলিমা আক্তার কয়েকবার কিছু না জানিয়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার কিছু দিন আগে তিনি প্রায় ১১ দিন নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময়ে তিনি বাবার বাড়িতেও অবস্থান করেননি বলে দাবি করা হয়

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কবির গাজী হঠাৎ বাড়িতে ফিরে এসে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও শাকিল কাজীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে শাকিল কাজী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যবহৃত গামছা দেখতে পান, যা শাকিল কাজীর বলে দাবি হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা কবির গাজী ও আকলিমা আক্তারকে নিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, আকলিমা আক্তারকে ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি শাকিল কাজীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। উপস্থিত কয়েকজনের ভাষ্যমতে, তিনি বলেন, “শাকিল কাজীর সঙ্গে আমার প্রায় পাঁচ বছরের পরিচয় এবং দুই বছরের সম্পর্ক রয়েছে। আমি শাকিলের সঙ্গেই থাকতে চাই।” স্থানীয়দের দাবি, ওই বৈঠকে আকলিমা আক্তারের পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়। পরে তার বাবা শাহ আলম ব্যাতী ও স্বজনরা একটি স্ট্যাম্প লিখিত জবানবন্দির মাধ্যমে আকলিমা আক্তারকে সংসার না করার এবং শাকিল কাজীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের দাবি করেছেন।

তবে ঘটনার প্রায় ১৮ দিন পর আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী কবির গাজীসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৯(১)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারা উল্লেখ করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার দিন রাতে তাকে জোরপূর্বক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়।

তবে স্থানীয়দের একটি অংশ এ অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই আকলিমা আক্তারকে স্থানীয় সালিশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাত গভীর পর্যন্ত বৈঠক চলে। এজাহারে ঘটনার উল্লেখ.

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “বাদীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার এক আসামি কবির গাজীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি লাভলী বেগম আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

মামলায় গ্রেফতার হওয়া কবির গাজীর মা বলেন, “একদিকে মা সংসার ছেড়ে চলে গেছেন, অন্যদিকে বাবা কারাগারে থাকায় দুই শিশু চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নাতিরা সারাদিন বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরকীয়ার ঘটনা প্রকাশে চলে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন