রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পর কী কী সরকারি সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন? জানুন আইনে যা আছে

রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় !
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ । ৯:৫০ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর কী কী সরকারি সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন? আইনে যা বলা আছে

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার গ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন, যতক্ষণ না নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শুক্রবার বিকেলে দেওয়া পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। যদিও তার মেয়াদের এখনও প্রায় দুই বছর বাকি ছিল, তারপরও তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেসব সুবিধা পাবেন

বাংলাদেশের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করার পর মেয়াদ শেষ করলে বা পদত্যাগ করলে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন।

মাসিক অবসরভাতা (পেনশন)

আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি সর্বশেষ মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পান। বর্তমানে মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিবেচনায় এ ভাতার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা।

এককালীন আনুতোষিকের সুযোগ

মাসিক অবসরভাতার পরিবর্তে চাইলে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি এককালীন আনুতোষিক গ্রহণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অবসরের এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হয়।

যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি আনুতোষিক গ্রহণের আগেই মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা বৈধ উত্তরাধিকারীরা আইন অনুযায়ী সেই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন।

চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সুবিধা

সাবেক রাষ্ট্রপতিদের জন্য আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • একজন মন্ত্রীর সমমানের সরকারি চিকিৎসা সুবিধা।
  • দাপ্তরিক কাজে সহায়তার জন্য একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ)।
  • একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেনডেন্ট)।
  • প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত ভাতা।

প্রটোকল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিরা আরও যেসব সুবিধা পান—

  • কূটনৈতিক (ডিপ্লোম্যাটিক) পাসপোর্ট।
  • বাসভবনে টেলিফোন সংযোগ ও নির্ধারিত বিল সুবিধা।
  • দেশের অভ্যন্তরে সরকারি সফরে সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুযোগ।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য সরকারি যানবাহন।

কোন ক্ষেত্রে এসব সুবিধা বাতিল হতে পারে?

সব পরিস্থিতিতে এই সুবিধাগুলো বহাল থাকে না। আইনে বলা হয়েছে—

  • রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর যদি তিনি এমন কোনো সরকারি পদে যোগ দেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বেতন বা সমপর্যায়ের আর্থিক সুবিধা পান, তাহলে এই সুবিধার ক্ষেত্রে আইনের বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হবে।
  • এছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হলে অথবা সুপ্রিম কোর্ট যদি ঘোষণা করে যে তিনি অসাংবিধানিক বা অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাহলে অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

আগের চাকরির পেনশন থাকলে কী হবে?

কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো সরকারি চাকরি থেকে অবসরভাতা পেয়ে থাকলে, তিনি একই সঙ্গে দুটি অবসরভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি অবসরভাতা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন