২৪শে আগষ্ট ইয়াসমিন হত্যা দিবস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ । ৪:০৩ অপরাহ্ণ

আজ ২৪ আগষ্ট ইয়াসমিন হত্যা দিবস
মো: মোস্তাকিম আল-হাসনাত,দিনাজপুর

দিনাজপুরে আজ ইয়াসমিন হত্যা দিবস পালিত
ইয়াসমিন হত্যার তিনদশক পেরিয়ে,১৯৯৫ সালে এক কিশোরী ধর্ষন ও হত্যার শিকার হয়, ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী নৈশকোচে বাড়ি ফেরার পথে তৎকালীন ১৪ বছর বয়সী কিশোরী ইয়াসমিন দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে নামেন। সেখান থেকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের টহল ভ্যানে তাকে তোলা হয়। কিন্তু সাহায্য করার বদলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য গাড়িটির ভেতর ইয়াসমিনকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে হত্যা করে এবং লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। এই ধর্ষণ ও হত্যা কান্ড কাঁপিয়ে ছিলো গোটা বাংলাদেশ, নাড়িয়ে দিয়েছিলো সরকারের গদি।ইয়াসমিন হত্যা দিবস প্রতিবছর ২৪ শে আগষ্ট পালিত হয়।কিন্তু পরদিন সকালে গোবিন্দপুর এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।
ইয়াসমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দিনাজপুরে নেমে আসে তীব্র ক্ষোভ। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে বিডিআর মোতায়েন এবং কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু ক্ষুব্ধ মানুষ কারফিউ উপেক্ষা করেই রাস্তায় নেমে আসে। একপর্যায়ে কোতোয়ালী থানা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ চরম রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে সাতজন মানুষ নিহত হন। ইয়াসমিনের গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের প্রতি জনসাধারণের ক্ষোভ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে অনেক পুলিশ সদস্য আত্মগোপনে চলে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনাজপুরের পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয় এবং জেলার ১০৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে অন্যত্র বদলি করা হয়।
বিভিন্ন সরকারি অফিসে ভাংচুর চালিয়ে তছনছ করা হয়। দিনাজপুর শহরে কাস্টমস গুদামে মালামাল লুট করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসেও আক্রমণ করা হয়। পরিস্থিতি এতোটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দিনাজপুর শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিডিআর মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনাজপুর শহরে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু এই কারফিউকে আমলে নেয়নি সাধারণ মানুষ। কারফিউ উপেক্ষা করেই বিভিন্ন জায়গায় মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
তবে সে সময় সরকারের তরফ থেকে একটি প্রেসনোট প্রচার করে পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়। উল্টো ঘটনার দায় নিহত ইয়াসমিন আক্তারের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
সেসময়কার বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ এসে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। প্রবল বিক্ষোভের মুখে ঘটনার পাঁচদিন পরে ময়নাতদন্ত এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির জন্য ইয়াসমিনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর তারা দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০৪ সালে তিন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
নিহত ইয়াসমিন আক্তারের গায়েবানা জানাজায় হাজার-হাজার মানুষ অংশ নেয়।
পুলিশের প্রতি মানুষের ক্ষোভ এতোটাই চরমে ওঠে যে পুলিশ সদস্যরা রীতিমতো লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়।
ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবিতে জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের এক স্মরণীয় অধ্যায়। একটি কিশোরীর নির্মম মৃত্যু যে কীভাবে একটি গোটা জনপদকে জাগিয়ে তুলেছিল, তারই প্রতীক হয়ে আছে ইয়াসমিন হত্যা দিবস। আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস শুধু অতীতের গল্প নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, মানবিকতার দাবি এবং ন্যায়বিচারের জন্য নিরন্তর সংগ্রামের স্মারক।
ধর্ষণ নিয়ে এতো বড়ো গণ আন্দোলন বাংলাদেশ এর আগে কখনো হয়নি, আজও তাই দিবসটি বিভিন্ন সংগঠন পালন করে আসছে ‘ইয়াসমিন হত্যা দিবস’ হিসেবে।

প্রধান সম্পাদক :  নাহিদুজ্জামান , সম্পাদক : আখি আক্তার , প্রকাশক:  আদনান হাসান আনন্ত । ফোন : ০১৭৮২৮১৮৮৭২ , ই-মেইল : bdnewws26@gmail.com, কপিরাইট © বিডি নিউজ২৬ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন