কলকাতার বাণিজ্যমেলায় বাংলাদেশি শাড়ির স্টল ক্রেতাদের ভিড়
ছবিঃ অনলাইন ডেস্ক
রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারতের কলকাতায় শুরু হওয়া ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যান্ড ট্রেড ফেয়ার-২০২৫
(আইআইজিটিএফ)–এ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের শাড়ি ব্যবসায়ীরা। চলমান কূটনৈতিক অস্বস্তির মাঝেও ঢাকাই জামদানি, মসলিন ও টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে তারা হাজির হয়েছেন কলকাতার সায়েন্স সিটি ময়দানের এই বাণিজ্যমেলায়। ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে এসব শাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয়, আর সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বেশ ভালো সাড়া মিলছে।
ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা
কলকাতার বাণিজ্যমেলায় বাংলাদেশি শাড়ির স্টল ক্রেতাদের ভিড়, ঢাকার আয়াত জামদানির ব্যবসায়ী রোহান জানান, “আমাদের পরিবার প্রায় ৪০ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। আগে বিক্রি অনেক ভালো ছিল, বিশেষ করে অনলাইন কেনাকাটা জনপ্রিয় হওয়ার আগে।” তার মতে, করোনা মহামারির আগে ব্যবসা জমজমাট থাকলেও এখন মূলত পুরনো ক্রেতারাই আবার আসছেন।
অন্যদিকে, আরেক ব্যবসায়ী মো. নাসিরউদ্দিন অপু বলেন, “আমরা টানা ৩০ বছর ধরে এই মেলায় অংশ নিচ্ছি। ভারতের ব্যবসায়ীরা যেমন বাংলাদেশে যান, আমরাও এখানে আসি—এভাবেই ব্যবসার সম্পর্ক থাকা উচিত। বড় কোনো সমস্যা নেই। তবে এবার প্রত্যাশামতো সাড়া পাওয়া যায়নি, দুর্গাপূজা সামনে হলেও বিক্রি তেমন হয়নি।”
কলকাতার বাণিজ্যমেলায় বাংলাদেশি শাড়ির স্টল ক্রেতাদের ভিড়, জামদানি ব্যবসায়ী মো. নাজমুল খান জানান, “বাংলাদেশে আগের মতো ব্যবসা আর নেই। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত বাজার ভালোই ছিল। আমি ভারতীয় সংস্কৃতি পছন্দ করি, কিন্তু এখানে স্থায়ীভাবে থাকা সম্ভব নয়।”
ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি শাড়ির চাহিদা
ব্যবসায়ীদের মতে, জামদানি, মসলিন ও টাঙ্গাইল শাড়ি ভারতের ক্রেতাদের কাছে সব সময় জনপ্রিয়। নকশা, রঙ ও নিখুঁত কারুকাজের কারণে এ শাড়িগুলোতে আগ্রহ থাকে বেশি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং শাড়ির বাজার সেই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখছে।
