রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় !
রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় !
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন—এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রাজনৈতিক মহলে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চুক্তিভিত্তিক কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এসব আলোচনা এখনো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে,
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতির পদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে মতবিনিময় চলছে বলে আলোচনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেও সাংবিধানিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় !
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে দলের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, দলীয় পরিচয়ের বাইরে সর্বজনগ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকেও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তবে দলের অনেক নেতার মতে, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্ব থাকাই অধিক উপযুক্ত হবে।
অন্যদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, যেসব নাম গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার সক্ষমতাকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উপলক্ষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতে তার আপত্তি নেই।
বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সম্ভাব্য নাম ও তথ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দায়িত্বশীল সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় !