আমার সোনার বাংলা আমি অমায় ভালোবাসি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের উদীয়মান ফুটবল রেফারি নাহিদ শেখকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঠে তার নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন, আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসার বিষয়গুলো সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের একজন সম্ভাবনাময় রেফারিকে সংবাদে তুলে ধরার জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন সাংবাদিক জসিম মুন্সী।
সংবাদটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই নাহিদ শেখের কাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনার আমন্ত্রণ আসতে শুরু করেছে। হঠাৎ করেই ব্যাপক পরিচিতি পাওয়ায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নাহিদ শেখ বলেন, “আমার কাজকে গুরুত্ব দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক জসিম মুন্সী ভাইয়ের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তার প্রতিবেদনের মাধ্যমেই অনেক মানুষ আমাকে চিনতে পেরেছেন এবং আমার প্রতি আস্থা প্রকাশ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটবল আমার ভালোবাসার জায়গা। সেই ভালোবাসা থেকেই আমি রেফারির দায়িত্ব পালন করি। পারিশ্রমিকের চেয়ে খেলাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে যা দেন, সেটুকুতেই আমি সন্তুষ্ট।”
ভবিষ্যতে দেশের পেশাদার ফুটবলে একজন দক্ষ ও স্বীকৃত রেফারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নের কথাও জানান নাহিদ। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের বিশ্বাস, এমন নিবেদিতপ্রাণ ও মেধাবী তরুণদের যথাযথ সুযোগ ও উৎসাহ দেওয়া হলে তারা একসময় জাতীয় পর্যায়েও সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্থাপনা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে ও সড়কের পাশে ও জনসাধারণের চলাচলে রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা।
উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যস্ততম সড়কের পাশেই বর্জ্যের উন্মুক্ত স্তূপ তৈরি হওয়ায় একদিকে যেমন তীব্র দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়াও আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়ায় মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
নাসিরনগর উপজেলার সদরে এখন পর্যন্ত কোনো নিজস্ব বা স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা গড়ে ওঠেনি। ফলে উপজেলায় প্রতিদিনের বাজার ও গৃহস্থালির টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে ঢ সড়কের পাশে এবং বাইপাস এলাকার খালি জায়গায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার পাশে স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রী এবং চালকদের নাক-মুখ চেপে এই এলাকা পার হতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়কের পাশে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকায় নানাবিধ চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; সড়কের পাশের এই ময়লার স্তূপের আকার কমাতে প্রায়শই স্থানীয়রা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়া সড়কে ও বাসা বাড়িতে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র গতির এই সড়কে ধোঁয়ার কারণে চালকদের সামনের পথ দেখতে মারাত্মক বেগ পেতে হয়, যা যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালকেরা। এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাসিরনগরে ময়লা ফেলার কোন জায়গা নেই। প্রতিদিন বাজারের সব আবর্জনা এনে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে বাসা- বাড়ি,দোকানে বসে থাকা যায় না, কাস্টমাররাও আসতে চায় না। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।”
পরিবেশবিদদের মতে, সড়কের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গার পাশে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ আইন ও জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী। দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই বর্জ্য অপসারণ ও স্থায়ী ল্যান্ডফিল তৈরি করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তবে যতদিন না স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে, ততদিন সড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণ করে বিকল্প কোনো স্থানে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী শুক্রবারই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগের খবরটি সামনে এলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন। একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবারই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। তবে বিষয়টির স্পর্শকাতরতার কারণে তথ্যদাতা সূত্রগুলোর কেউই নাম প্রকাশ করতে সম্মত হননি।
এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির মতামত জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রদের থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য মেলেনি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারান প্রায় ১,৪০০ মানুষ। সম্প্রীতি ভারত থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানালে, তাঁর আমলের শেষ মিত্রকেও পদ থেকে অপসারণের জন্য বর্তমান সরকারের ওপর সর্বসাধারণের চাপ বৃদ্ধি পায়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক ও আলঙ্কারিক। রাষ্ট্রের মূল নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা।
২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করবেন।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।