দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার কমলেও শিক্ষা নগরি চিরিরবন্দরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চমক অব্যাহত। মো: মোস্তাকিম আল হাসনাত,দিনাজপুর। এবারের এসএসি ২০২৬ এর ফলাফলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশে নেমে এলেও ব্যতিক্রম “শিক্ষা নগরী” চিরিরবন্দর। বোর্ডের গড়ের চেয়ে অনেক বেশি পাসের হার ও জিপিএ-৫ নিয়ে ফের আলোচনায় উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে পাশের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। চলতি বছর পাশের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে পাশের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ কমেছে, পাশাপাশি বেড়েছে শূন্য ফলাফল করা স্কুলের সংখ্যা কিন্তু এর মধ্যেই ব্যতিক্রম চিরিরবন্দর উপজেলার ১০টি পরিচিত স্কুলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১৮৮ জন গড় পাসের হার ৮৮.৮৫ শতাংশ যা বোর্ডের গড়ের চেয়ে ৩০.০৮ শতাংশ বেশি। সরকারী বেসরকারী মোট ১০টি স্কুলের এবারের ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ১৩৩৭ জন পরিক্ষার্থী মধ্যে ৮৮.৮৫ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ১১৮৮ জন পরিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯৪ জন পরিক্ষার্থী। আইডিয়াল রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে ২৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪২ জন পরীক্ষার্থী, আমেনা-বাকী রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২১৭ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০২জন পরীক্ষার্থী, মেহের-হোসেন রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৩ জন পরীক্ষার্থী , সিটি রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর ৭১ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৫ জন পরিক্ষার্থী। পিছিয়ে নেই সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুল গুলিও আলোকডিহি জান বক্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৫৯ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯.৫৩ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ২০৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন পরিক্ষার্থী, কালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮.০৬ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ১১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন পরিক্ষার্থী, চিরিরবন্দর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯২ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩.৯১ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৬ও জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন পরিক্ষার্থী, আমতলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯২ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে ৭৮.২৬ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৭২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন পরিক্ষার্থী, দক্ষিণ পলাশবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৬ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭.৬৩ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৫৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন পরিক্ষার্থী, হাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮০ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৬.২৫ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৬১ জন পরিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন পরিক্ষার্থী। মেহের-হোসেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “বোর্ডের ফল খারাপ হলেও আমরা আমাদের মান ধরে রেখেছি। সারা বছর মডেল টেস্ট, দুর্বলদের আলাদা কেয়ার আর অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগের কারণে এই ধারাবাহিকতা।” সিটি রেসিন্ডেসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন ,” এবারের প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিবেশ তুলনামুলক কঠিন হলেও চিরিরবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা আবাসিক অনাবাসিক স্কুলগুলোর কঠোর মনিটরিং ও পড়াশোনার পরিবেশের কারণেই এই সাফল্য।” চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, “বোর্ডে যখন পাসের হার কমেছে, তখন আমাদের উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করেছে এটা আমাদের জন্য গর্বেরই, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিশ্রম ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহই এই ধারাবাহিক সাফল্যের কারণ সেইসাথে কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো কলেও বেশকিছু স্কুল আশানুরূপ ফলাফল করতে পারে নাই। আমরা এই স্কুলগুলিতে বিশেষ মনিটরিং এর করবো যাতে করে আমরা এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও ভালো ফলাফল বের করে আনতে পারি সেই চেষ্টাই করবো “।


