আমার সোনার বাংলা আমি অমায় ভালোবাসি
পাবনায় মাদকদ্রব্য সেবনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
পাবনা সদর উপজেলার আরিফপুর হাজিরহাট এলাকার এক ব্যক্তিকে মাদকদ্রব্য সেবনের অভিযোগে ২১ (একুশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোঃ সুমন (২৭), পিতা—মোঃ আতিয়ার, সাং—আরিফপুর হাজিরহাট, থানা—পাবনা সদর, জেলা—পাবনা, মাদকদ্রব্য সেবনের অপরাধে দণ্ডিত হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক থেকে দূরে থাকতে এবং আইন মেনে চলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মাদকবিরোধী এ ধরনের পদক্ষেপ সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণে সরাইল - নাসিরনগর - হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক
অবহেলা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে হবিগঞ্জ-নাসিরনগর-সরাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪ লেন প্রকল্প।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া -১ নাসিরনগর সংসদীয় ২৪৩ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা এম এ হান্নান এমপি এর যৌথ
প্রচেষ্টায় সড়কটি নির্মাণে ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে উদ্যোগটি সম্পন্ন হলে বদলে যাবে নাসিরনগর- সরাইল ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ও জীবনমান। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট সড়কপথে যাতায়াতে কমবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব।
গত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নাসিরনগর – সরাইল- হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করণের জন্যে জোরালো বক্তব্য পেশ করেছিলেন।
হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, লাখাই ও নাসিরনগর সীমান্তে বলভদ্র নদীর ব্রিজ থেকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের আওতায় আনা হয়েছে। এতে মোট ৬১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে ৩৯৬ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন স্থানান্তরে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। চারটি পৃথক প্যাকেজে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে এ সড়ক সম্প্রসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নির্বাচন করা হলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আটকে যায়। এক পর্যায়ে প্রকল্পটি বাতিল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জেলাবাসীর বিক্ষোভ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেওয়াসহ আন্দোলনের মুখে তা ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সড়কটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন জেলাবাসী।
গত সংসদ নির্বাচনের আগেই জি কে গউছ সড়কটি অগ্রাধিকার প্রকল্পে নেয়ার আশ্বাস দেন। নির্বাচিত হয়ে গত ১২ এপ্রিল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে ডিও দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী সড়কটি উন্নয়নের জন্য ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।
স্থানীয়রা জানান, সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্পখাতের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এখন দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
জি কে গউছ বলেন, গত নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ সড়কটি আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার প্রকল্পে নিই। অবশেষে কাজটি আলোর মুখ দেখাতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ মাত্র সাড়ে ৫ মিটার হওয়ায় যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। সড়কটি ১০ দশমিক ৩০ মিটার প্রশস্তকরণসহ উন্নয়ন করা হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে। কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এ অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। এ সড়ক ব্যবহার করলে হবিগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেটের সঙ্গে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে যায়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনজুড়ে আজ যেন এক টুকরো আগামীর বাংলাদেশ। কেউ তৈরি করেছে পরিবেশবান্ধব ‘স্মার্ট সিটি’, কেউ দেখাচ্ছে রোবটের চমৎকার কারিশমা, আবার কারও স্টার্ট-আপ প্রজেক্টে উঠে এসেছে আধুনিক কৃষির দারুণ সব সমাধান। ‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় কেরানীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলো ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম-২০২৬’।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘এসইডিপি’ (SEDP)-এর অধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)-এর আয়োজনে এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ ব্যবস্থাপনায় খুদে বিজ্ঞানীদের এই মিলনমেলা বসেছে।
আমান উল্লাহ আমান এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। শিক্ষার্থীদের তৈরি চমৎকার সব প্রজেক্ট ঘুরে দেখে এবং তরুণ বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির কোনো কমতি নেই। সঠিক সুযোগ আর একটুখানি পরিবেশ পেলে আমাদের এই তরুণরাই একদিন বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তি-নির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাই বদ্ধপরিকর।” পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবনী আইডিয়াগুলোকে কেবল প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্যিকভাবে ‘স্টার্ট-আপ’ বা ব্যাবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তরের ওপর বিশেষ তাগিদ দেন তিনি।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের চোখধাঁধানো সব উদ্ভাবন। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশ নিয়েছে। স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে তাদের নিজেদের হাতে তৈরি রোবোটিক্স, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইটি প্রজেক্ট এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সিটির মডেল। খুদে বিজ্ঞানীদের এই অবিশ্বাস্য সৃজনশীলতা দেখতে মেলা প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি। অতিথিবৃন্দ ও আলোচকেরা তরুণদের এই মেধাভিত্তিক চর্চাকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং উপজেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।