সব ভায়োলেন্স পরিহারের আহ্বান ফখরুলের—‘অন্যের মতকে সম্মান না দিলে গণতন্ত্র টিকবে না
ছবিঃ বিডি নিউজ ২৬
সব ভায়োলেন্স পরিহারের আহ্বান ফখরুলের—‘অন্যের মতকে সম্মান না দিলে গণতন্ত্র টিকবে না
বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “ভিন্নমতকে সহ্য করার মানসিকতা না থাকলে কোনো গণতন্ত্রই কার্যকর হতে পারে না।”
বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজনে যুক্ত ছিল বিএনপি ও ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার।
‘মব ভায়োলেন্স গণতন্ত্র নয়’ — ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে সম্প্রতি যেভাবে সহিংসতা ও মবক্রেসির মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তিনি মন্তব্য করেন—
“আমি আপনার মতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা—এটাই প্রকৃত গণতন্ত্র। পিটিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি, ভেঙে দেওয়ার আহ্বান, জনতাকে উসকে দেওয়া—এগুলো ডেমোক্রেসি নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার সময় অযথা অস্থিরতা তৈরি করে জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশ ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে’—বিএনপি মহাসচিব
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে হলেও এটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।
“নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রকে ফেরানো এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও বলেন, টেকসই রাষ্ট্র গড়তে হলে বিচার বিভাগ, সংসদ, গণমাধ্যম ও প্রশাসনকে স্বাধীন ও দৃঢ় করতে হবে।
দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ডকুমেন্টেশনের ঘোষণা
গত ১৬ বছরে বিএনপির ওপর দমন–পীড়নের অভিযোগ তুলে ফখরুল বলেন, লাখো মানুষের বিরুদ্ধে মামলা, গুম-খুন ও নিপীড়নের ঘটনাগুলোকে ‘ইতিহাসে নথিবদ্ধ’ করতে নতুন গবেষণা ও ডকুমেন্টেশন শুরু হচ্ছে।
তার ভাষায়—
“পৃথিবীর কোনো লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এত দীর্ঘ সময় এমন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে কি না সন্দেহ আছে। এই ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা জরুরি।”
সংস্কার বিতর্কে দলের অবস্থান পরিষ্কার
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি তুলে আসছে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত কৃতিত্ব দেখানোর মানসিকতা সংস্কারের চেতনাকে সংকুচিত করে।
‘রেইনবো স্টেট’ ধারণা ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক অবস্থান
ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়; বরং একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক প্ল্যাটফর্ম। সব ধর্ম-বর্ণ-মতের জনগণকে নিয়ে ‘রেইনবো স্টেট’ গড়াই তাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থান সবসময়ই গণতন্ত্রের পক্ষে।
তার উদ্ধৃতি দিয়ে ফখরুল বলেন—
“প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়—সবার সঙ্গে মিলেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তারেক রহমানও গণতন্ত্রমুখী জনসম্পৃক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন…
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
এছাড়া বক্তব্য দেন—
সেলিমা রহমান, সাইফুল হক, অধ্যাপক বি. এম. নাগিব হোসেন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং বইয়ের সম্পাদক বাবুল তালুকদার।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সব ভায়োলেন্স পরিহারের আহ্বান ফখরুলের—‘অন্যের মতকে সম্মান না দিলে গণতন্ত্র টিকবে না
সব ভায়োলেন্স পরিহারের আহ্বান ফখরুলের—‘অন্যের মতকে সম্মান না দিলে গণতন্ত্র টিকবে না
সব ভায়োলেন্স পরিহারের আহ্বান ফখরুলের—‘অন্যের মতকে সম্মান না দিলে গণতন্ত্র টিকবে না
