নারী দিবসে পাবনায় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড়
নারী দিবসে পাবনায় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড়
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পাবনা শহরের গোপালপুর এলাকার হেমসাগর লেনে অবস্থিত বাংলার কিংবদন্তি অভিনেত্রী Suchitra Sen–এর পৈতৃক বাড়িতে ঘুরতে যান অনেক দর্শনার্থী ও ভক্ত। ছোট্ট একটি টিকিট কেটে প্রবেশ করেই দর্শনার্থীরা খুঁজে পান বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহানায়িকার স্মৃতি ও ইতিহাসের নানা চিহ্ন।
বাড়ির প্রবেশমুখে রয়েছে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য, যা নির্মাণ করেছেন ভাস্কর Sanjay Pal এবং Rinku Animikh। শিল্পী রিঙ্কু অনিমিখ জানান, তিন ফুট উচ্চতার আবক্ষ ভাস্কর্যটি চার ফুট উঁচু স্তম্ভের ওপর স্থাপন করা হয়েছে, ফলে মাটি থেকে এর মোট উচ্চতা প্রায় সাত ফুট। জানা যায়, এটাই এপার বাংলা ও ওপার বাংলায় সুচিত্রা সেনের একমাত্র ভাস্কর্য।
বাড়ির মূল ফটক পেরিয়ে বড় উঠান পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় দেয়ালজুড়ে টাঙানো ছোট–বড় ফ্রেমে বাঁধানো অসংখ্য ছবি। এসব ছবিতে ফুটে উঠেছে মহানায়িকার শৈশব ও কৈশোরের নানা স্মৃতি। তবে বাস্তব চিত্রটি কিছুটা হতাশাজনক। অনেক ছবিই ধুলায় ঢেকে গেছে, দেয়ালের কোণায় জমেছে মাকড়সার জাল, আর টিনের চালের অবস্থা দেখে বোঝা যায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত সংস্কার হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, বাড়িটি বর্তমানে পাবনা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবহেলার চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাড়ির চারপাশে বেড়ে ওঠা আগাছা যেন নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সময়ের অবহেলার।
দেয়ালে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সুচিত্রা সেনের জন্ম ৬ এপ্রিল ১৯৩১ সালে পাবনা জেলায়। পরে তিনি কলকাতায় চলচ্চিত্রজগতে প্রবেশ করেন এবং অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নিজেকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে Harano Sur, Saptapadi, Devdas এবং হিন্দি চলচ্চিত্র Aandhi। তিনি ১৭ জানুয়ারি ২০১৪ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি সুচিত্রা সেন ছিলেন নারীর আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রতীক। নারী দিবসে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ি ঘুরে দেখতে এসে অনেক দর্শনার্থীই বলেন, মহানায়িকার জীবন ও সাফল্য আজও নারীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
ছোট একটি টিকিট, ইতিহাসে ভরা একটি বাড়ি এবং নারী দিবস—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতি ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
