তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে সিএনজি চালকের নৈরাজ্য
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে সিএনজি চালকের নৈরাজ্য
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে সিএনজি চালকের নৈরাজ্য
অতিরিক্ত ভাড়া না দেওয়ায় বৃদ্ধাকে লাথি মারার হুমকি, প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার আলটিমেটামতাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী এক সিএনজি চালকের চরম ঔদ্ধত্য, যাত্রী হয়রানি ও এক প্রবীণ নারীকে লাথি মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকির খবর পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় গাড়িতে থাকা সাধারণ যাত্রী এবং উপস্থিত পেশাদার সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে প্রকাশ্য হামলার হুমকি দিয়েছে ওই চালক। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে এই সিএনজি চালককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
*ঘটনার বিবরণ:*
তাহিরপুর থেকে সিএনজি যোগে সুনামগঞ্জ আসার পথে চালক যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করে। গাড়িটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে গাড়িতে থাকা সাধারণ যাত্রী এবং উপস্থিত সবার সাথে অত্যন্ত নোংরা ও আপত্তিকর আচরণ শুরু করে।
এক পর্যায়ে গাড়িতে থাকা আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী এক অসহায় বৃদ্ধা নারী এই অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে, ওই পাষণ্ড চালক ওনাকে লাথি মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়ার হীন হুমকি দেয়। একজন বয়োবৃদ্ধ নারীর প্রতি চালকের এমন অমানবিক আচরণে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
*সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকি:*
সেখানেই শেষ নয়, চালকের এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করায় সে আরও উগ্র রূপ ধারণ করে। সেখানে উপস্থিত যাত্রী এবং সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর চালক আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সে প্রকাশ্যেই উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতিতে উপস্থিত এক ভুক্তভোগী সাংবাদিক তাৎক্ষণিকভাবে ওই সিএনজি গাড়ির নম্বর প্লেটের ছবি তুলে রাখেন।
*অভিযুক্ত সিএনজি ও মোবাইল নম্বর:*
সংবাদকর্মীদের সংগ্রহ করা তথ্য ও ছবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত সবুজ রঙের সিএনজি গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর *”সুনামগঞ্জ-থ ১১-৩৪৩৬”। গাড়িটির পেছনে চালক বা মালিকের একটি যোগাযোগের মোবাইল নম্বরও লেখা রয়েছে, যা হলো *”০১৭৫৭০৭৮৩১২”**।
*তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ:*
এই ঘটনার পর তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং সচেতন সংবাদকর্মী সমাজ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম এই সড়কে চালকদের এমন মগের মুল্লুক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে একজন নারী ও প্রবীণ নাগরিককে লাথি মারার হুমকি এবং দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার আলটিমেটাম দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ।
*প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:*
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীরা জানান, সিএনজির নম্বর ও মোবাইল নম্বর সহ সব তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। তারা আশা করছেন, সুনামগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ দ্রুত এই সিএনজি চালককে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে। সাধারণ যাত্রী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কগুলোতে সিএনজি চালকদের এমন নৈরাজ্য বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
