ভুরুঙ্গামারীতে অপকর্ম আড়াল করতে মিথ্যা মানববন্ধনের নামে অপপ্রচারের অভিযোগ: নেপথ্যে ধর্ষণ মামলা ও অপরাধী চক্রের সুগভীর ষড়যন্ত্র
ভুরুঙ্গামারীতে অপকর্ম আড়াল করতে মিথ্যা মানববন্ধনের নামে অপপ্রচারের অভিযোগ: নেপথ্যে ধর্ষণ মামলা ও অপরাধী চক্রের সুগভীর ষড়যন্ত্র!
ভুরুঙ্গামারীতে অপকর্ম আড়াল করতে মিথ্যা মানববন্ধনের নামে অপপ্রচারের অভিযোগ: নেপথ্যে ধর্ষণ মামলা ও অপরাধী চক্রের সুগভীর ষড়যন্ত্র
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাটেশ্বরী বাজারে নিজেদের অপরাধ ও অন্যায় কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতে এবং একটি চলমান ধর্ষণ মামলাকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে ‘মানববন্ধনের’ নামে নজিরবিহীন মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। গত ০৬ জুন ২০২৬ তারিখ শনিবার বিকেলে আয়োজিত এই কথিত মানববন্ধনের নেপথ্যে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের সুগভীর ষড়যন্ত্র এবং সাধারণ মানুষকে প্রলোভন ও জোরপূর্বক জড়ো করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত কথিত মানববন্ধনের মূল হোতা ও পরিচালক হলেন পাইকেরছড়া (৫নং ওয়ার্ড) এলাকার মোঃ জসিম উদ্দিনের পুত্র মোঃ মজিদুল ইসলাম খোকন (৪৫)। মানববন্ধনে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা স্থানীয় সমাজসেবক ও সচেতন নাগরিক মোঃ রহিম বাদশা, চান মিয়া, আলামিন এবং রেনু বেগমের বিরুদ্ধে মাদক ও নারী ব্যবসার কাল্পনিক অভিযোগ এনে তীব্র বক্তব্য প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই সম্পূর্ণ নাটকটি সাজানো হয়েছে নিজেদের অপকর্ম লুকানোর জন্য।
এই সাজানো অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগী মোঃ রহিম বাদশা বলেন, মজিদুল ইসলাম খোকন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, পূর্ব শত্রুতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই কাল্পনিক নাটক সাজিয়েছে। নিজেদের মাদক, অবৈধ ক্যাসিনো ও অনৈতিক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে এরা এলাকার কিছু সহজ-সরল, নিরক্ষর মানুষকে সরকারি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কিছু ভাড়াটে লোক এনে দাঁড় করিয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিনা উস্কানিতে আমার বৃদ্ধ পিতা মোঃ আব্দুর রহমানকে বাজারে প্রকাশ্যে ধাক্কা দিয়ে চরম অপমান করা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক, জুয়া ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিক হিসেবে সোচ্চার। আমার সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করতেই এই অপপ্রচার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলেই এই অপরাধী চক্রের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। আমি প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ভুরুঙ্গামারীতে অপকর্ম আড়াল করতে মিথ্যা মানববন্ধনের নামে অপপ্রচারের অভিযোগ: নেপথ্যে ধর্ষণ মামলা ও অপরাধী চক্রের সুগভীর ষড়যন্ত্র
ঘটনার মূল ভুক্তভোগী মোছাঃ আসমা আক্তার আশা নামের এক তরুণী এই মানববন্ধনের পেছনের আসল রহস্য ফাঁস করে জানান, মজিদুল ইসলাম খোকনের খালাতো ভাই এবং সেনাবাহিনীর সৈনিক জাহাঙ্গীর আলম তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিয়ের চাপ দিলে জাহাঙ্গীর ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে পালিয়ে যান। আসমা আক্তার বলেন, আমি জাহাঙ্গীর আলমের পিতা-মাতার সাথে যোগাযোগ করলে তারা মিটমাটের কথা বলে আমাকে বাড়িতে ডাকে। কিন্তু সেখানে জাহাঙ্গীর আলমের মা জাহানারা বেগম আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে না পারায় তারা সবাই মিলে আমাকে অমানুষিক মারধর করে এবং আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সার্টিফিকেট ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়, যা গ্রামের সবাই দেখেছে। পুলিশ এলে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মজিদুল ইসলাম খোকন তাকে ১ লক্ষ টাকার প্রলোভন দেখায়। তাতে রাজি না হওয়ায় আনসার আলী কবিরাজ ও তার ছেলে ফরিদ মন্ডল আসমাকে মানসিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিরুপায় হয়ে আসমা স্থানীয় ‘চান মিয়া’ নামের এক ব্যক্তিকে ধর্মভাই ডেকে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেও এক রাতে ভাড়াটে গুন্ডা পাঠিয়ে আসমাকে মারধর ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, যা নিয়ে আরেকটি মামলা চলমান। আসমার দাবি, এই মামলাগুলো ধামাচাপা দিতে এবং তাকে এলাকা ছাড়া করতেই খোকন বাহিনী “সরকার থেকে গরু-ছাগল দেওয়া হবে” বলে গ্রামের মূর্খ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে এই নোংরা মানববন্ধন করিয়েছে এবং মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী ট্যাগ দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কথিত এই মানববন্ধনের অসারতা প্রমাণ করে স্থানীয় সচেতন সমাজ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, রহিম বাদশার নামে কোনোদিন একটা খারাপ রিপোর্ট শুনিনি। সে অত্যন্ত ভালো ছেলে এবং সমাজসেবক। সে তো দূরের কথা, বিড়ি-সিগারেটও ছুঁয়ে দেখে না। একটা কুচক্রী মহল নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেই এই নাটক সাজিয়েছে। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী পলাশ মাহমুদ বলেন, রহিম বাদশা সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করত। আসমা নামের মেয়েটির ওপর যে চরম নির্যাতন হয়েছে এবং তার শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে অমানুষিক মেরেছে, তা এলাকার সবাই জানে। এই অপরাধীদের দ্রুত বিচার হওয়া দরকার। এলাকার মুরুব্বী ওসমান গনি বলেন, সেদিনের মানববন্ধনে যা বলা হয়েছে সব উল্টো। সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে মিথ্যা প্রচার করা হয়েছে। নিজেদের অপরাধ লুকাতে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে মিথ্যা প্রলোভনে আনা হয়েছিল। এমনকি উক্ত মানববন্ধনে যোগ দেওয়া রাসেল নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে জোর করে মানববন্ধনে নিয়ে দাঁড় করানো হয়েছিল। আমি জানতামই না কিসের মানববন্ধন! আসলে মানববন্ধনে যাদের নামে মাদক ও নারী ব্যবসার ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, তাদের সাথে এসবের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা গ্রামের সবচেয়ে ভালো মানুষ এবং এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ধর্ষণ মামলা, মারধর, সার্টিফিকেট ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই এবং পরবর্তীতে এই অপরাধসমূহ ধামাচাপা দিতে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর এই জঘন্য ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সুশীল সমাজ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে তদন্তপূর্বক এই চাঁদাবাজ, ধর্ষক ও অপপ্রচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
