সাংবাদিক হত্যার এক দিন পরও রহস্যে ঘেরা মনিরামপুর,
সাংবাদিক হত্যার এক দিন পরও রহস্যে ঘেরা মনিরামপুর
সাংবাদিক হত্যার এক দিন পরও রহস্যে ঘেরা মনিরামপুর
যশোরের মনিরামপুরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার ঘটনার এক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটকও করা হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাল, কেনই বা এত নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, আর কার স্বার্থেই বা এই রক্তপাত?
পুলিশ ও নিহতের পরিবার—উভয় পক্ষই এখনো ঘটনার কারণ সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানাচ্ছে, তদন্ত চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মোটিভ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) তিনি গণমাধ্যমকে জানান,
“আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিল বলে আমি জানি না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছি না। হয়তো কোনো স্বার্থ জড়িত ছিল, কিন্তু সেই স্বার্থ কার, সেটাই তো কেউ বলতে পারছে না। আমি শুধু আমার সন্তানের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনার দিন সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে প্রকাশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন দুর্বৃত্ত রানা প্রতাপ বৈরাগীকে তাঁর বরফকল থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে কপালিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে একটি ক্লিনিকের সামনে নির্জন গলিতে নিয়ে খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় পরপর সাতটি গুলি করা হয়।
গুলিতে নিহত হওয়ার পরও দুর্বৃত্তরা গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হলেও খুনিরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামে। কপালিয়া বাজারে তাঁর বরফ তৈরির কারখানা ছিল এবং কেশবপুরের কাটাখালী বাজারে তিনি একটি মাছের আড়ত পরিচালনা করতেন। পাশাপাশি তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ৪০ বছর বয়সী রানা প্রতাপ বৈরাগী দুই ভাইবোনের মধ্যে বড়। তাঁর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। চার বছর আগে তিনি কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। রানা প্রতাপ বৈরাগীর একটি ১০ বছর বয়সী সন্তান রয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন,
“হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক জানান,
“হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আশা করছি, দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।”
তবে প্রকাশ্য বাজারে একজন সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও এখনো কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তদন্তের ফল কী আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
