প্রায় দুই দশক পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান বাসভবন প্রস্তুত
ছবিঃ বিডি নিউজ ২৬
প্রায় দুই দশক পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান বাসভবন প্রস্তুত
প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তাঁর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলটির পক্ষ থেকে নীরবে কিন্তু পরিকল্পিত প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর গুলশানে তাঁর জন্য নির্ধারিত বাসভবনে চলছে শেষ মুহূর্তের সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন।
সিলেট হয়ে ঢাকায় আসবেন
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য থেকে রওনা হবেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিমানটি প্রথমে সিলেটের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে, এরপর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকবেন কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান।
গুলশানে বাসভবনের প্রস্তুতি
রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। একতলা এই বাড়িটিতে নতুন করে রং করা হয়েছে, বসানো হয়েছে দরজা-জানালা। বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে স্টিল ব্যারিকেড ও একাধিক পুলিশ বক্স। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)।
বাড়িটির আশপাশে কূটনৈতিক স্থাপনা ও বহুতল ভবন থাকায় পুরো এলাকাটিকেই বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
‘ফিরোজা’র পাশেই অবস্থান
তারেক রহমানের এই বাসভবনের কাছেই রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’। দুই বাড়ির মাঝের পুরো এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া ও নিরাপত্তা চাদর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে একাধিক পুলিশ বক্স বসানো হচ্ছে।
দলীয় কার্যালয়ে কর্মপরিকল্পনা
জানা গেছে, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তারেক রহমান। ভবনটির একটি কক্ষ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে তাঁর জন্য। পাশাপাশি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও একটি আলাদা কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ ডিজাইনের বুলেটপ্রুফ গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগে যেখানে সিএসএফের সদস্য সংখ্যা ছিল ১০ জন, এখন তা বাড়িয়ে ২৫ জনের বেশি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমাগমপূর্ণ কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় বিশেষ বাহিনীর সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।
বিএনপির রাজনৈতিক প্রস্তুতি
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এটিকে একটি রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছে। দলের স্থায়ী কমিটি ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নেতৃত্বের মতে, তাঁর সরাসরি উপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দল আরও সংগঠিত হবে।
পেছনের প্রেক্ষাপট
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। প্রায় দেড় বছর কারাবাসের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে যান। দীর্ঘদিন সেখানেই অবস্থান করেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান দেশে ফিরলেও তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা এতদিন লন্ডনে ছিলেন।
দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে তাঁর এই দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
