নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন বানচালের যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ৫ দফা দাবিতে সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, “অপকর্মে জড়িত ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, আরেক দল এখন চাঁদাবাজ হয়ে মাঠে নেমেছে। তারা সংস্কার ও গণভোটে আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত জনগণের চাপের মুখে ভোটের দিন গণভোট আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছে। অথচ এখন তাদের কেউ কেউ নির্বাচন পেছানোর সুর তুলছেন। নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার ফাঁকি জনগণ বরদাশত করবে না।”
জামায়াত আমির আরও বলেন, প্রশাসনিক ক্যু কিংবা বিদেশি শক্তির প্রভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন জনগণ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির দাদাগিরি প্রশ্রয় পাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই দেশ ইসলাম ও জনগণের আদর্শে পরিচালিত হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক বাংলাদেশ।”
সমস্ত ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখনও যারা বাইরে রয়েছেন, তাদের বলছি—চাঁদাবাজদের সঙ্গে আপনাদের মানায় না। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুন, আমরা আপনাদের স্বাগত জানাবো।”
আওয়ামী লীগের কিছু পলাতক নেতা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত তাদের রাখতে পারছে না, ছাড়তেও পারছে না। এ ঘটনাই তাদের রাজনৈতিক পরিণতির স্পষ্ট উদাহরণ। যারা নতুন করে জুলুমকারী হয়ে উঠছেন, তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি, নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—এই পাঁচ দফা দাবিতে সমমনা আট দল যুগপৎ কর্মসূচি দিয়ে আসছে। সিলেটের সমাবেশটি ছিল তাদের শেষ বিভাগীয় কর্মসূচি।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
