বিল দিতে না পারায় মৃত সন্তানের মাকে আটকে রাখল ল্যাম্ব হাসপাতাল, ইউএনও-র হস্তক্ষেপে মুক্তি!
বিল দিতে না পারায় মৃত সন্তানের মাকে আটকে রাখল ল্যাম্ব হাসপাতাল, ইউএনও-র হস্তক্ষেপে মুক্তি!
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ল্যাম্ব হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত এক শিশুর বিল পরিশোধ করতে না পারায় তার মাকে আটকে রাখার এক অমানবিক ও হৃদয়বিদারক অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ সাদ্দাম হোসেনের দ্রুত ও মানবিক হস্তক্ষেপে ওই মা হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের সোনাপুর মাঝাপাড়া গ্রামের এক দরিদ্র ভ্যানচালকের ৬ দিন বয়সী অসুস্থ সন্তানকে গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ল্যাম্ব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ জুলাই শিশুটি মারা যায়।
সন্তানের মৃত্যুর পর হাসপাতালের অতিরিক্ত চিকিৎসা বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় এই দরিদ্র পরিবারটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলেও, বিলের টাকা জামানত হিসেবে আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুর মাকে হাসপাতালে আটকে রাখে।
মায়ের অনুপস্থিতিতেই দাফন সম্পন্ন
এদিকে সন্তানের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর মায়ের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পরিবার। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাকে না ছাড়ায়, দাফন কার্যে বিলম্ব হতে থাকে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে সন্ধ্যার দিকে মায়ের অনুপস্থিতিতেই শিশুটির দাফন কার্য সম্পন্ন করতে বাধ্য হয় পরিবার। সন্তান হারানোর শোকের মধ্যে মাকে আটকে রাখার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ইউএনও-র মানবিক হস্তক্ষেপ
বিষয়টি জানতে পেরে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ সাদ্দাম হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেন। তিনি ল্যাম্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন এবং উপজেলার বিশেষ তহবিল থেকে হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ করার শর্তে ভুক্তভোগী মাকে হাসপাতাল থেকে মুক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ল্যাম্ব হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে ক্ষোভ
একসময় ল্যাম্ব হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার সুনাম থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এর মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমানে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত ধীরগতির এবং সেবার মান আগের চেয়ে অনেক নেমে গেছে।
কয়েক মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক ভুক্তভোগী জানান,
“আমাকে জরুরি অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পরও প্রায় ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল, তারপর ডাক্তার আসেন। এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত ধীরগতির এবং দরিদ্র মানুষের জন্য এখানকার অতিরিক্ত চিকিৎসা বিল পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ল্যাম্ব হাসপাতালের এমন বাণিজ্যিক ও অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সেবার মান উন্নয়ন এবং দরিদ্রবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন।

