তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নাহিদের কড়া বার্তা
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নাহিদের কড়া বার্তা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘প্রতারণাপূর্ণ সরকার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং এতে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নাহিদের কড়া বার্তা
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে এনসিপির ঢাকা দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সমাবেশে তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানির দাম নিয়েও কথা বলেন।
নাহিদ ইসলামের দাবি, গণভোটে অনুমোদিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে তাদের ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে আন্দোলনে যাবে এনসিপি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন পক্ষ জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতির উন্নতি হবে। কিন্তু সরকারের কয়েক মাসের কার্যক্রমে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য
সমাবেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে তারেক রহমানের ভারত সফর জনগণ সহজভাবে গ্রহণ করবে না।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলোর বিচার এবং অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ শোজিব ভূঁইয়াও সমাবেশে ভারত প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত না আনা পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফরকে জনগণের প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখা হতে পারে।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার দেশে ফেরার বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এনসিপিও চায় অভিযুক্তরা দেশে ফিরে আসুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হোক।
তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের হত্যার বিচার প্রত্যাশা করছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও এনসিপির আপত্তি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গেও বিএনপির সমালোচনা করেন এনসিপির মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, জুলাই সনদের বিষয়গুলো উপেক্ষা করে সংবিধানের বিদ্যমান ৭০ অনুচ্ছেদের কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা না রেখে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে ছিল এনসিপি।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে সরকারের কর্মকাণ্ড, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং জুলাই আন্দোলনের বিচার—এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। তাঁদের বক্তব্যে সরকারকে সতর্ক করার পাশাপাশি এসব ইস্যুতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদারের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।
নোট: ভারত সফর, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য রাজনৈতিক অভিযোগ—এগুলো বক্তাদের বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; এগুলোকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নয়।

