কেন বাঁচানো গেল না ওসমান হাদিকে? যা জানালেন নিউরোসার্জন !
মারা গেলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি
কেন বাঁচানো গেল না ও সমান হাদিকে? যা জানালেন নিউরোসার্জন !
ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা প্রথম থেকেই অত্যন্ত সংকটজনক বা ‘ক্রিটিক্যাল’ ছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তার ‘গ্লাসগো কোমা স্কেল’ (GCS) ছিল মাত্র ৩, যা সাধারণত একজন মৃত ব্যক্তির থাকে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে আনার পরপরই তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে চলে যান, তবে চিকিৎসকরা ৫ সাইকেল সিপিআর (CPR) দেওয়ার পর তার হৃদস্পন্দন ফিরে আসে এবং হার্ট ও ফুসফুস কৃত্রিমভাবে সচল রাখা হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩ ঘন্টার মধ্যে বা ‘গোল্ডেন আওয়ারের’ ভেতরেই তার অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। অপারেশনের সময় যখন মাথার হাড়ের অংশটি খোলা হয়, তখন তার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা ফিরে এসেছিল এবং পরবর্তীতে ইভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর তার কিডনিও কাজ করা শুরু করে, ফলে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়নি।
বাংলাদেশে ইনফেকশনের ঝুঁকি এড়াতে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে বিমানে নেওয়ার সময় বাতাসের চাপের (Air pressure) কারণে তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছিল, যা পরে ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
সিঙ্গাপুরে সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, তার মস্তিষ্কের বাম পাশে রক্ত চলাচল কমে গেছে (Ischemia) এবং মগজ বা ব্রেন খুব বেশি ফুলে গেছে। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথসহ অন্যান্য হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। হাদির পরিবার তাকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিয়ে চিকিৎসার ইচ্ছা পোষণ করেছিল, যেমনটা মালালা ইউসুফজাইয়ের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল।
কিন্তু ডাক্তাররা জানান, মালালার সাথে হাদির অবস্থার অনেক পার্থক্য ছিল। মালার গ্লাসগো কোমা স্কেল ছিল ৯-১০, আর হাদির ছিল ৩। এছাড়া হাদির ‘ব্রেন স্টেমে’ (Brain Stem) আঘাত ছিল এবং মস্তিষ্কের রক্তনালীর খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় (Circle of Willis) বুলেটের একটি অংশ আটকে ছিল। ১০-১২ ঘন্টার দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার ছিল না, তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়নি।
ডা. আহাদ উল্লেখ করেন, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়র ডাক্তাররা খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন এবং চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল না। ঢাকা থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত তাকে ইউরোপ বা আমেরিকার মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন এবং অপারেশনের পর সাময়িক কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেলেও, মস্তিষ্কের গভীর আঘাত ও জটিলতার কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
– মঞ্জুরুল আহসান
