খুঁজুন
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩
আজঃ সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
শিরোনাম
কালের সাক্ষী নাসিরনগর- হরিপুর জমিদার বাড়ি পর্যটকের ভীড়ে সরগরম। গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর সড়ক বেহাল দুর্ভোগে হাজারো মানুষ হালুয়াঘাটে মোবাইল গেম আসক্তি তীব্র অবক্ষয়ের মুখে কিশোরেরা প্রশাসনের সহযোগিতা চায় সচেতন মহল হালুয়াঘাটের যুবক ভারতে বিএসএফের হাতে আটক পতাকা বৈঠক চলছে ফিরিয়ে আনার বিজিবির সর্বোচ্চ চেষ্টা।  আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার বিকল্প নেই: তাওহীদ হৃদয় বালিয়াডাঙ্গীতে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক সমাবেশ ‎নাসিরনগরে বিস্ফোরক মামলায় উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল গ্রেফতার ফতুল্লায় সাড়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ ‘ফাইটার মনির’সহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার নাসিরনগরে ‎বাজেট কার্যকরের আগেই ভোক্তাদের পকেট কাটছে অসাধু সিন্ডিকেট বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে গড়ে উঠুক আগামী দিনের উদ্ভাবনী বাংলাদেশ দিনাজপুর চিরিরবন্দরের দুই মেধাবী তরুণের জাতীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তায় গৌরবময় অংশগ্রহণ ‎নাসিরনগরে অটোরিক্সা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অটো চালকের মৃত্যু নাসিরনগরে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন এম এ হান্নান এমপি নাসিরনগরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে গবাদিপশু সহ ৩টি বসতভিটা পুড়ে ছাই। পাবনায় মাদকদ্রব্য সেবনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণে সরাইল – নাসিরনগর – হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক। কেরানীগঞ্জে ইনোভেশন আইডিয়া মেলায় নতুনদের চমক নাসিরনগরে ফুটবল খেলার জেরে দু’ পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষ মানবকল্যাণ ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে – সাবরিনা বিনতে আহমেদ শুভ্রা মুকসুদপুরে স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শনী পাবনায় প্রতারণা মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে পুশ-ইন ঠেকাতে মুখোমুখি বিজিবি-বিএসএফ ভারতকে একের পর এক কূটনৈতিক চিঠি বাংলাদেশের নীতি-নৈতিকতার চরম অবক্ষয়; অস্থিরতা ও বিতর্কে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাহজাদপুরে র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান: ১৩৮ বোতল ইস্কাফসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার রাজশাহীতে অস্ত্র গুলি ও এলকোহোল উদ্ধার পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুনের পরিবারের ওপর সশস্ত্রী হামলা: জমি দখলের নামে তাণ্ডব ও প্রাণনাশের আশঙ্কা পাবনায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট জরিমানা ও ৯০ কেজি পলিথিন জব্দ পাবিপ্রবি ছাত্রীদের গণতন্ত্র হলে সিসিটিভি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ! নিরাপত্তার নামে নজরদারি নাকি ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ? স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে! আনসার সদস্য এমরানের প্রতারণা ফাঁস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী

স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী। সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন রংপুর-৩ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি আনোয়ারা ইসলাম রানী। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি হরিণ প্রতীকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভোটারদের।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর নুরপুর এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও পিছিয়ে যাচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো পরাজয়ের সিদ্ধান্ত নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি নৈতিক ও প্রতিবাদী অবস্থান।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য প্রান্তিক মানুষের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবিতে তিনি আন্দোলন করে আসছেন। নারীদের জন্য যেখানে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে তৃতীয় লিঙ্গ ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এখনও সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি—এ বিষয়টিকেই তিনি মূল প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে তুলে ধরেন।

রানী আরও বলেন, রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজ বদলানোর কথা বলা হলেও বাস্তব রাজনৈতিক কাঠামোতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অংশগ্রহণ এখনও দৃশ্যমান নয়।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। এবারের নির্বাচনেও তিনি জনগণের কাছ থেকে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে নির্বাচন ব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই সরে দাঁড়ানো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। বরং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বাধ্য করার একটি বার্তা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উত্তেজনা, সহিংসতা বা অপপ্রচার না চালানোর অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য। তাঁর সিদ্ধান্তকে ঘিরে যেন কেউ বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা সৃষ্টি না করে, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আদালত, সংসদ এবং রাজপথ—সব জায়গাতেই এই দাবি তুলে ধরা হবে।

শেষে তিনি রংপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁকে যেভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেভাবে মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে, তা তিনি আজীবন স্মরণে রাখবেন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে তিনি একচুলও সরে আসবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, আনোয়ারা ইসলাম রানী দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে সক্রিয় একজন সামাজিক সংগঠক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পরিচিত।

কালের সাক্ষী নাসিরনগর- হরিপুর জমিদার বাড়ি পর্যটকের ভীড়ে সরগরম।

খ,ম,জায়েদ হোসেন ( নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া)
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
কালের সাক্ষী নাসিরনগর- হরিপুর জমিদার বাড়ি পর্যটকের ভীড়ে সরগরম।

কালের সাক্ষী নাসিরনগর- হরিপুর জমিদার বাড়ি পর্যটকের ভীড়ে সরগরম।

কালের সাক্ষী নাসিরনগর- হরিপুর জমিদার বাড়ি পর্যটকের ভীড়ে সরগরম।

 

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হরিপুর জমিদার বাড়ী।
প্রতিদিন পর্যটকদের ভীড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে জমিদার বাড়ির সুবিশাল আঙ্গিনায়।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে তিতাস নদীর পূর্বপ্রান্তে হরিপুর জমিদার বাড়ি,   কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তিতাস নদীর তীরে এ ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি, জমিদার বাড়ি, বড়বাড়ি। এ বাড়িটিকে কেউ বলে রাজবাড়ি , বড়বাড়ি আবার কেউ বলে জমিদার বাড়ি। বর্তমানে এটা অর্পিত সম্পত্তি । প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক লোক আসে বাড়িটি দেখতে।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে অবস্থিত এই বড়বাড়িটি। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বাড়িটির অবস্থান। নাসিরনগর থেকে মাধবপুর যাওয়ার পথে উপজেলার শেষ সীমান্তে হরিপুর গ্রামের রাস্তার পশ্চিম পাশে তিতাস নদীর পাড়ে চোখে পড়ার মত দুই গম্বুজের তিনতলা সুবিশাল বাড়িটি। বাড়িটির পূর্ব পাশে নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক। বাকি দিকে তিতাস নদীর ফাঁকা জায়গা। বাড়ির বাইরে থেকে কিছুই বোঝার উপায় নেই। অনেক বড় বারান্দা ডিঙিয়ে মূল বাড়ি।  নান্দনিক স্থাপত্য শৈলিতে নির্মিত বাড়িটি।
সরেজমিনে দেখা যায়,বাড়ির বাইরের অবয়বটি অবিকল রযে গেছে। কারুকাজ খচিত দেয়াল,স্তম্ভ ও কার্নিশ।  সব কয়টি কক্ষেরই পুরানো সেই দরজা নেই। বর্তমানে বসবাসকারীরা সাধারণ মানের দরজা লাগিয়ে বসবাস করছে। সব মিলিয়ে ৩০ টি পরিবার রয়েছে এখানে। ১০ থেকে ৭০ বছর ধরে তাদের বসবাস। বাড়ির ভিতরের অংশে অনেকটা গোছালো পরিবেশ।
জানা যায়,প্রায় ১৭৫ বছর পূর্বে জমিদার গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরী ও কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী বাড়িটি নিমার্ণ করেন। বৃটিশ আমলে নির্মিত বাড়িটির নিমার্ণ শৈলী বড়ই মনোরম। ১৩৪৩ বাংলার ১২ চৈত্র দোল পূর্নিমা তারিখে  কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরীর মূত্যুর পর পর্যায়ক্রমে বাড়িটির উত্তরাধিকার হন হরিপদ রায় চৌধুরী ও শান্তি রায় চৌধুরী। তাদের কাছ থেকে বাড়ির মালিকানা ও জমিদারি আসে উপেন্দ্র রায় চৌধুরী ও হরেন্দ্র রায় চৌধুরী।
কালক্রমে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্ত হওযার পর জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে তারা বাড়িটি ফেলে কলকাতায় চলে যায়। জমিদাররা বাড়িটি ফেলে গযাওয়ার সময় পুরোহিতদের রেখে যায়। এখনও জরাজীর্ণ জমিদার বাড়িতে পুরোহিতদের বংশধরেরা বসবাস করছে। বাড়িটির দেয়ালের অধিকাংশ পলেস্তারা খসে পড়ছে,আর সেখানে জমেছে শেওলার আবরণ। দৃষ্টি নন্দন কারুকাজের খুব অল্পকিছু অংশই বিলীন হতে বাকি আছে। জনশ্রুতি আছে, মেঘনা তথা তিতাসের পূর্বপ্রান্তে এত বড় বাড়ি আর কোথাও  নেই। প্রায় ৪৮০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত তিনতলা জমিদার বাড়িটিতে প্রায় ৬০টি কক্ষ,রং মহল,দরবার হল,ধানের গোলা,গোয়ালঘর, রান্নার ঘর,নাচ ঘর, মল পুকুর,খেলার মাঠ,মন্দির ও সীমানা প্রাচীর রয়েছে।
বিশাল আয়তনের বাড়িটির পুরো ভবনের কোথাও কোন রডের গাঁথুনি নেই। লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ভবনের দুপাশে দুটি সুউচ্চ গম্বুজ সগর্বে মাথা তুলে দাড়িঁয়ে ঘোষনা করছে, জমিদার বংশের ঐতিহ্যের কথা। দু’তলায় উঠার ৬ দিকে ৬টি সিড়িঁ ও তিন তলায় উঠার ২ দিকে ২টি সিuঁড় রয়েছে। বাড়তি পশ্চিম-উত্তর কোণে ৬টি বেড রুম এবং মল পুকুরের পূর্বপাড়ে ৪টি ও পশ্চিম পাড়ে ৪টি বেড রুম রয়েছে। বাড়ির পশ্চিম দিকে তিতাস নদীর পাড়ে পাকা ঘাটলার উত্তর দিকে কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী  ও দক্ষিণ দিকে গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর সমাধি মঠ রয়েছে ।  বাড়িটি দেখার জন্য এখনও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন বনভোজনে আসেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তিতাসে যখন পানি থৈ থৈ করে তখন বাড়িটির সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়।
বাড়িটিতে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি কখনো। দিনকে দিন বাড়িটি সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।  এক সময়ে ঐতিহ্যবাহি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হরিপুর জমিদার বাড়ির নদীর ঘাট থেকেই শুরু হত। এ বাড়িতে ‘‘মধুমালতি’’‘‘ঘেটু পুত্র কমলা’’নাইওরীসহ অনেক ছবি চিত্রায়িত হয়েছে।

গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর সড়ক বেহাল দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ছাইম খান ( গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ)
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর সড়ক বেহাল দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর সড়ক বেহাল দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর সড়ক বেহাল দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম থেকে সিলনা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা যান চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও অজানা কারণে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যেখানে কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গুয়াধানা ব্রিজ থেকে জ্ঞান ডাক্তারের ব্রিজ পর্যন্ত অংশে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট একটি অংশ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে খুঁড়ে রাখা ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে।

গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর সড়ক বেহাল দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বেদগ্রাম রেলক্রসিং, টাবুরিয়া ঘাটা, রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা এবং মন্ডল মার্কেটের সামনে সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় রাস্তার প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, যা পথচারী ও চালকদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ।

প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী এবং ব্যবসায়ীরা এই সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বহু বছর ধরে এই সড়কের দুরবস্থার কারণে আমরা ভোগান্তি পোহাচ্ছি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের ভাষ্য, রাস্তার গর্ত ও ভাঙা অংশের কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের সময় আলোস্বল্পতার কারণে সড়কটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কের সমস্যার বিষয়ে অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তারা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়া সংস্কারকাজ পুনরায় চালু করে পুরো সড়কটি টেকসইভাবে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, আর কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।

হালুয়াঘাটে মোবাইল গেম আসক্তি তীব্র অবক্ষয়ের মুখে কিশোরেরা প্রশাসনের সহযোগিতা চায় সচেতন মহল

আরিফ আহম্মেদ (ময়মনসিংহ)
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
হালুয়াঘাটে মোবাইল গেম আসক্তি তীব্র অবক্ষয়ের মুখে কিশোরেরা প্রশাসনের সহযোগিতা চায় সচেতন মহল

হালুয়াঘাটে মোবাইল গেম আসক্তি তীব্র অবক্ষয়ের মুখে কিশোরেরা প্রশাসনের সহযোগিতা চায় সচেতন মহল

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় তরুণ ও যুবসমাজের মাঝে মোবাইল গেমের আসক্তি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে ৮ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরেরা ক্রমশ এই মরণনেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। উপজেলার গ্রাম, মফস্বল, রাস্তা-ঘাট, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

 

আনাচে-কানাচে চোখ রাখলেই দেখা মেলে একদল তরুণের, যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে খেলছে ‘পাবজি’ (PUBG) কিংবা ‘ফ্রি ফায়ার’ (Free Fire)-এর মতো জনপ্রিয় ও আসক্তিপূর্ণ গেমগুলো।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই মোবাইল গেমিংয়ের কারণে তরুণ প্রজন্ম তাদের মূল্যবান সময়ের অপচয় করছে এবং ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গেমের পেছনে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা এবং শিক্ষাঙ্গন থেকে ছিটকে পড়ছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গেম আসক্ত এই অল্প বয়সী কিশোরদের আচার-আচরণে দিন দিন চরম অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি অনেক কিশোর অন্য আসক্তদের দেখে নিজেদের বাবা-মাকে দামি স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও বাধ্য করছে।

 

দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় ভার্চুয়াল জগতের এই মরণখেলায় পার করে দেওয়ায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকগণ। সচেতন মহলের দাবি, আজকের এই শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা যদি এভাবে আসক্তির অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়, তবে সমাজের হাল ধরবে কে?

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই মোবাইল গেম আসক্তি আগামীতে মাদকের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং যুবসমাজকে রক্ষায় হালুয়াঘাটবাসী ও সচেতন মহল প্রশাসনের জরুরি ও বিশেষ সহযোগিতা কামনা করছে।