খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩
আজঃ বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
শিরোনাম
পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুনের পরিবারের ওপর সশস্ত্রী হামলা: জমি দখলের নামে তাণ্ডব ও প্রাণনাশের আশঙ্কা পাবনায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট জরিমানা ও ৯০ কেজি পলিথিন জব্দ পাবিপ্রবি ছাত্রীদের গণতন্ত্র হলে সিসিটিভি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ! নিরাপত্তার নামে নজরদারি নাকি ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ? স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে! আনসার সদস্য এমরানের প্রতারণা ফাঁস শিশু ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশ: শৈশব নাকি প্রতিযোগিতার যুদ্ধ? RS Fahim Arrest: মিরপুরে ‘মব’ নাটক! ৫টি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস পিএসএল ২০২৬: লাহোরকে হারিয়ে করাচি কিংসের শ্বাসরুদ্ধকর জয় আজকের স্বর্ণের ভরি কত? ২২ ক্যারেট দামে নতুন আপডেট SRH vs RCB ম্যাচ ঘিরে বাংলাদেশে তুমুল উত্তেজনা—সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং শীর্ষে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে পাবিপ্রবিতে বড় চমক! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক হলেন পাবিপ্রবি উপাচার্য গোদাগাড়ীতে এএসআই লতিফার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ফাঁস! ঈদের আগেই বেনাপোল বন্দরের শ্রমিকদের মুখে হাসি! অগ্রিম বেতন-বোনাস দিল শ্রমিক ইউনিয়ন বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে রাজীব খাদেমের ব্যপক অনিয়ম – ১২ কোটির প্রকল্পে ৩ কোটিই ঘুষ! মানিকগঞ্জে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ- সিএনজি ক্ষতিগ্রস্ত আহত ২ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখন ময়লার স্তূপ নারী দিবসে পাবনায় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় রুয়েটে দ্বিতীয় ধাপের পরও ফাঁকা ১৫৫ আসন আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দখল! মানিকগঞ্জে চাচা–ভাতিজা বিরোধ চরমে মানিকগঞ্জে খুচরা ডিলারদের নিবন্ধন ও টি-লাইসেন্স দাবিতে মানববন্ধন পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া: ইরান ইস্যুতে খাজা আসিফের বিস্ফোরক মন্তব্য দেশজুড়ে বিক্ষোভে নিহত ২০ পদ্মার পাড়ে প্রেমিক-প্রেমিকা জিম্মি! ‘অনৈতিক’ অভিযোগ তুলে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই ইরানে ভয়াবহ বিমান হামলা! বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান – মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৭৪২ মানিকগঞ্জে ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচার বাড়ি দখলের অভিযোগ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ! উপসাগরে আগুনের আঁচ! ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল সৌদি-আমিরাত-কাতার-কুয়েত-বাহরাইন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! ইসরাইল লক্ষ্য করে ইরানের ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাইরেনে কেঁপে উঠল দেশ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদে প্রক্টর অফিস ঘেরাওয়ের ঘোষণা ডাকসুর ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা – অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে  পাবনা সদর উপজেলায় এনসিপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলম মোঃ রওশন

গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

রোম , "ইতালি"
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ছবিঃ বিডি নিউজ ২৬

গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস:

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম প্রমাণ করেছে—দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।”

ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব খাদ্য ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ দানোন শিশুখাদ্য দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে কাজ করছে। একইভাবে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা অসংখ্য সামাজিক ব্যবসা (Social Business) উদ্যোগ সমাজ ও মানুষকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিচ্ছে।


তরুণ ও নারীদের জন্য সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

“এখন সময় এসেছে তরুণ, নারী, কৃষক এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জন্য একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গড়ে তোলার। এজন্য এমন একটি আইনি ও আর্থিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা বাধামুক্তভাবে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তরুণরা জনগণের অংশগ্রহণে এক সফল সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে সেই তরুণ প্রজন্মই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

ড. ইউনূস জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা হবে ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণের ক্ষমতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।


বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অগ্রগতি

গ্রামীণ ব্যাংক প্রমাণ করেছে দরিদ্র নারীরাও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

“বাংলাদেশের আয়তন ইতালির প্রায় অর্ধেক হলেও ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য যোগান সরকার সফলভাবে নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ, এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধান, শাকসবজি ও মিঠাপানির মাছ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

বাংলাদেশি কৃষকরা জমির ফসল ফলানোর হার ২১৪ শতাংশে উন্নীত করেছেন। ইতোমধ্যে ১৩৩টি জলবায়ু-সহনশীল ধানজাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণে বিপ্লব ঘটেছে।


ক্ষুধা কোনো অভাবের নয়, নৈতিক ব্যর্থতার ফল

অধ্যাপক ইউনূস ক্ষুধাকে কেবল খাদ্যের অভাব নয় বরং অর্থনৈতিক ও নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন,

“২০২৪ সালে বিশ্বে ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল। অথচ পৃথিবী যথেষ্ট খাদ্য উৎপাদন করছে। এটি উৎপাদনের সমস্যা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক ব্যর্থতা। যখন আমরা ক্ষুধা দূর করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার জোগাড় করতে পারি না, তখনই ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার অস্ত্র কেনায় ব্যয় করি—এটাই কি আমাদের অগ্রগতির সংজ্ঞা?”


মূল বার্তা

ড. ইউনূসের বক্তব্যে উঠে এসেছে—সামাজিক ব্যবসা, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি উদ্ভাবন ও নৈতিক অর্থনীতির মধ্য দিয়েই ক্ষুধামুক্ত ও টেকসই সমাজ গড়া সম্ভব।

পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুনের পরিবারের ওপর সশস্ত্রী হামলা: জমি দখলের নামে তাণ্ডব ও প্রাণনাশের আশঙ্কা

প্রতিবেদক: অমিত কবিরাজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুনের পরিবারের ওপর সশস্ত্রী হামলা: জমি দখলের নামে তাণ্ডব ও প্রাণনাশের আশঙ্কা

পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুনের পরিবারের ওপর সশস্ত্রী হামলা: জমি দখলের নামে তাণ্ডব ও প্রাণনাশের আশঙ্কা

পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাগরিকা খাতুনের পরিবারের ওপর সশস্ত্রী হামলা: জমি দখলের নামে তাণ্ডব ও প্রাণনাশের আশঙ্কা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করে তাদের বাড়ি ও দোকানে ঢুকে পড়ে এবং কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই লোহার রড, শাবল ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এসময় পরিবারের কর্তা গুরুতরভাবে আহত হন। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্যান্য সদস্যদেরও হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে হামলাকারীরা তার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়া করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, পাশাপাশি নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন।

পাবনায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট জরিমানা ও ৯০ কেজি পলিথিন জব্দ

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
পাবনায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট জরিমানা ও ৯০ কেজি পলিথিন জব্দ

পাবনায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট জরিমানা ও ৯০ কেজি পলিথিন জব্দ

পাবনা শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের বিক্রি ও মজুদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে একটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (০৫ এপ্রিল ২০২৬) জেলা প্রশাসন, পাবনা ও পরিবেশ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সদর উপজেলার তাঁতী সমবায় মার্কেট, আব্দুল হামিদ রোড এলাকায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার দায়ে একটি দোকানের মালিককে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৯০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসন, পাবনার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল আলিম। এ সময় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুল মমিন।

অভিযান চলাকালে জেলা পুলিশ, পাবনা-এর একটি দল সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন, বিক্রি ও মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বাজারে এখনও গোপনে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার ও বেচাকেনা চলমান থাকায় নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা মনে করেন, প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে পলিথিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।

পাবিপ্রবি ছাত্রীদের গণতন্ত্র হলে সিসিটিভি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ! নিরাপত্তার নামে নজরদারি নাকি ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ?

অমিত করিরাজ ( পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় )
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
পাবিপ্রবি ছাত্রীদের গণতন্ত্র হলে সিসিটিভি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ! নিরাপত্তার নামে নজরদারি নাকি ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ?

পাবিপ্রবি হলের সিসিটিভি বিতর্ক: নিরাপত্তা নাকি নজরদারি?

পাবিপ্রবি ছাত্রীদের গণতন্ত্র হলে সিসিটিভি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ! নিরাপত্তার নামে নজরদারি নাকি ছাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ?

মেয়েদের গনতন্ত্র হলের কিচেনসংলগ্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে কেন্দ্র করে আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ছাত্রীদের দাবি, হলের বিভিন্ন ফ্লোরেই ক্যামেরা বসানো হয়েছে, কিন্তু কে এই ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করবেন, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এবং ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করা হবে—এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন

একটি আবাসিক হল শুধু থাকার জায়গা নয়; এটি তাদের ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি মানসিক অস্বস্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে কিচেনের মতো নিয়মিত ব্যবহৃত স্থানে ক্যামেরা বসানোয় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—নিরাপত্তার নামে এই পর্যবেক্ষণ কতটা যৌক্তিক?

অভিযোগ উঠেছে

মূলত কে রাইস কুকার ব্যবহার করছে, কে ইলেকট্রিক জগ ব্যবহার করছে, কিংবা রান্নাঘর কতটা পরিষ্কার রাখা হচ্ছে—এসব বিষয় নজরদারির জন্যই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মতে, একটি রান্নাঘর যখন পুরো হলের ছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য, তখন কিছুটা অগোছালো হওয়া স্বাভাবিক; সেক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে কর্মী নিয়োগই বেশি কার্যকর সমাধান।
খাবারের মান নিয়েও রয়েছে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। ডাইনিংয়ে প্রতিদিন প্রায় একই ধরনের খাবার পরিবেশন, পুষ্টিগত বৈচিত্র্যের অভাব এবং বাইরের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে অনেকেই নিজেদের জন্য রান্না করার সুযোগকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন

এছাড়া হলের অবকাঠামোগত সমস্যাও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। ছয়টি লিফটের মধ্যে মাত্র দুটি সচল রয়েছে, বাকি চারটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির জন্য ব্যবহৃত ফিল্টার নষ্ট থাকায় নিরাপদ পানীয় জল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য

যেখানে মৌলিক সুবিধাগুলো এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে নজরদারি ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নিরাপত্তা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু সেই নিরাপত্তা যেন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তার সীমা অতিক্রম না করে—এমনটাই দাবি আবাসিক ছাত্রীদের।

বর্তমানে বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।