শিবালয়ে বসতভিটার মাটি কাটার অভিযোগ; ঘরবাড়ি ভেঙে নিঃস্ব প্রায় পরিবার
শিবালয়ে বসতভিটার মাটি কাটার অভিযোগ; ঘরবাড়ি ভেঙে নিঃস্ব প্রায় পরিবার
মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের ফলসাটিয়া এলাকায় রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যক্তিমালিকানাধীন বসতভিটার মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মাটি কাটার কারণে তাদের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে গেছে এবং তারা বর্তমানে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী মো. পিন্টু মিয়া জানান, গত ১৫ জুন ২০২৬ তিনি শিবালয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তিনি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরও অভিযোগ করেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবগত করলে তিনি ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফলসাটিয়া গ্রাম থেকে আজিজের বাড়ি পর্যন্ত একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাটি সংগ্রহ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন বসতভিটার মাটি কেটে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাস্তার দুই পাশে সরকারি খাসজমি থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে মাটি না কেটে তাদের জমি থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বসতভিটার মাটি সরে গিয়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. পিন্টু মিয়া বলেন, “আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আমাদের কথা শোনা হয়নি। বসতভিটার মাটি কেটে নেওয়ায় আমাদের ঘর ভেঙে গেছে। প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা বাথরুমও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা এখন অসহায় অবস্থায় আছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি।
লিখিত অভিযোগে মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাজাহানসহ রাজিব আহমেদ (রাজিব হোসেন), সাইদুর রহমান, সুজন মিয়া ও বাবুর আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাজাহান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মাটি কাটার ঘটনায় ভূমিকা রেখেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জমি থেকে মাটি কাটার প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তা নির্মাণকাজ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, নির্মাণের পর রাস্তার কিছু অংশে ভাঙনও দেখা দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাজাহান। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনেই রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি অবগত করলে তিনি জানান, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।