খুঁজুন
, ,
আজঃ ,
শিরোনাম
নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​ শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, টুঙ্গিপাড়ার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে এমপি এস এম জিলানী কৃষকদলের ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু প্রথম চারা রোপণ করলেন এমপি জাহাঙ্গীর আলম নাসিরনগরে ১২ হাজার টাকার জালনোট সহ গ্রেফতার -১ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পর কী কী সরকারি সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন? জানুন আইনে যা আছে রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ! নাসিরনগরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন উপহার চিরিরবন্দরে প্রধান অতিথি হুইপ আখতারুজ্জামান ​চিরিরবন্দরে ১১ হাজার ভোল্টের লাইনে কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু হরিরামপুরে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্যের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নাসিরনগর গুনিয়াউকে সড়ক উন্নয়ন  কাজের উদ্বোধন করেন এমপি এম এ হান্নান। স্মার্ট ব্যাংকিংয়ের নতুন দিগন্ত রানীরবন্দরে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলা কিউআর’ চালু ডিজিটাল কৃষির নতুন দিগন্ত চিরিরবন্দরে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরা হলো না কিশোর তসলিমের চিরিরবন্দরে ট্রাক চাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু দিন বদলেছে মাঝি বদলেছে; থামেনি বর্ণি বাওড়ের খেয়া পারাপার মানিকগঞ্জে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার: প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নাসিরনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উদযাপন নিজাম শেখ পরিবারকে ঘিরে মামলায় উঠছে নানা প্রশ্ন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি চিরিরবন্দরে আলোচনা সভা ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালিত নাসিরনগরে সিঁড়িতে পড়ে ছিল নবজাতক খোঁজ নেই মা-বাবার মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর প্রশাসনের দ্বারস্থ ! দিনাজপুরে শিক্ষামন্ত্রীর “পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ  শিবালয়ে বসতভিটার মাটি কাটার অভিযোগ; ঘরবাড়ি ভেঙে নিঃস্ব প্রায় পরিবার চিরিরবন্দরে মাদকবিরোধী অভিযান ৩ মাদকসেবীর কারাদন্ড ও অর্থদন্ড বিল দিতে না পারায় মৃত সন্তানের মাকে আটকে রাখল ল্যাম্ব হাসপাতাল, ইউএনও-র হস্তক্ষেপে মুক্তি! নাসিরনগরে চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডি নতুন সভাপতি সায়মা আক্তার আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ বিতর্ক: ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা পাবিপ্রবির কণ্ঠস্বর আবৃত্তি দলের নেতৃত্বে সাজ্জাদুর রহমান ও রওনাক নোশিন নেহা স্বপ্ন সাফল্য আর গৌরবের ২৫ বছর—উৎসবের রঙে মাতলো গোবিপ্রবি

পাবনায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পাবনা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
পাবনায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ছবিঃ অনলাইন ডেস্ক

পাবনায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

মাদকমুক্ত সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাঠে থাকার কথা যাদের, সেই পাবনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই উঠেছে সাপ্তাহিক চাঁদা গ্রহণের বিস্ফোরক অভিযোগ। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক টাকা নিয়ে তাদের ব্যবসা চালাতে সহায়তা করা হচ্ছে—আর সেটি চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মহেন্দ্রপুর, বলরামপুর, সাধুপাড়া, দিলালপুর টেকনিক্যাল মোড় ও টেবুনিয়া—এই এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে একধরনের “চাঁদা-নির্ভর মাদক ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক” তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। সূত্র জানায়—মহেন্দ্রপুরের একজন হিরোইন ব্যবসায়ী সাপ্তাহিক ৩,০০০ টাকা, একই এলাকার গাঁজা ব্যবসায়ী আলম ২,০০০ টাকা, আরেকজন আখি ৪,০০০ টাকা দেন। বলরামপুরে ‘বিন্দু মাসি’ নামে পরিচিত নারী মাদক ব্যবসায়ী allegedly সাপ্তাহিক ৫,০০০ টাকা পরিশোধ করেন। সাধুপাড়ার রুমনের স্ত্রী মুন্নির কাছ থেকে নেওয়া হয় ৪,০০০ টাকা। দিলালপুর টেকনিক্যাল মোড় ও টেবুনিয়ার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২,০০০ টাকাসহ পাবনার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দুই থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিয়ে থাকেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—এই টাকার বড় অংশ লেনদেন হয় পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ফারুক স্টোরের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে। স্থানীয়দের দাবি, এই পদ্ধতিতে অর্থ লেনদেন করলে অনেক সময় প্রমাণ রেখে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না, আর সেই সুযোগই ব্যবহার করছে চক্রটি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী—এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পাবনার কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। যাদের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা গেছে তারা হলেন—এএসআই কামরুজ্জামান সাগর, এএসআই মিনা পারভিন, সিপাই রাসেল এবং এসআই জামালুর রহমান। অভিযোগকারীরা বলছেন, এই কর্মকর্তাদের ‘মৌন সম্মতি’তে মাদক ব্যবসাগুলো বাধাহীনভাবে চলছে, আর ব্যবসায়ীরাও এই নিয়মিত চাঁদা দিয়ে নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,মানুষের মাঝে প্রচণ্ড হতাশা আর ক্ষোভ।

একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, যারা মানুষের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাবে, যদি তারাই টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষা করে,তাহলে আমরা ন্যায়বিচার চাইতে কোথায় যাব? মাসের পর মাস কোনো বড় অভিযান নেই, কিন্তু টাকার লেনদেন থেমে নেই। এটা মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ।

অভিযোগ আরও আছে—মাদকবিরোধী অভিযান যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর করে দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও অভিযান নেই, তৎপরতা নেই, নেই কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি অভিযোগের দিকেই ইঙ্গিত করে।

বিকাশ এজেন্টের লেনদেন ঘিরে আরও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় অনুসন্ধানে দেখা যায়,সেখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন লোকজনের আসা–যাওয়া, লেনদেনের ধরনও অস্বাভাবিক। অনেক লেনদেন নগদ জমা, আর ব্যবহার করা ফোন নম্বরগুলোর বেশিরভাগই অনুসন্ধানে ট্রেস করা কঠিন হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই নীরবতায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি জনমনে অনাস্থাও বাড়ছে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন,এই অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তবে এটি শুধু দুর্নীতি নয়; বরং মাদকবিরোধী সংগ্রামকে ধ্বংস করার মতো গুরুতর অপরাধ। তাদের দাবি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের স্বচ্ছ তদন্ত, অভিযুক্তদের লেনদেন-তথ্য যাচাই, এবং দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান পুনরায় চালু করা।

এই পরিস্থিতিতে পাবনার মানুষ একটাই কথা বলছেন,
মাদক নির্মূলের দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা যদি নিজেই মাদক ব্যবসার অংশে পরিণত হন, তবে সমাজকে রক্ষা করবে কে?

নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​

নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​

উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্থাপনা  বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে ও সড়কের পাশে ও জনসাধারণের চলাচলে রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা।
উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যস্ততম সড়কের পাশেই বর্জ্যের উন্মুক্ত স্তূপ তৈরি হওয়ায় একদিকে যেমন তীব্র দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়াও   আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়ায় মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ​
নাসিরনগর উপজেলার সদরে  এখন পর্যন্ত কোনো নিজস্ব বা স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা গড়ে ওঠেনি। ফলে  উপজেলায় প্রতিদিনের বাজার ও গৃহস্থালির টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে ঢ সড়কের পাশে এবং বাইপাস এলাকার খালি জায়গায়। ​
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার পাশে স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন  ও ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রী এবং চালকদের নাক-মুখ চেপে এই এলাকা পার হতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়কের পাশে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকায় নানাবিধ চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ​ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; সড়কের পাশের এই ময়লার স্তূপের আকার কমাতে প্রায়শই স্থানীয়রা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়া সড়কে ও বাসা বাড়িতে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র গতির এই সড়কে ধোঁয়ার কারণে চালকদের সামনের পথ দেখতে মারাত্মক বেগ পেতে হয়, যা যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালকেরা। ​এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাসিরনগরে ময়লা ফেলার কোন জায়গা নেই। প্রতিদিন বাজারের সব আবর্জনা এনে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে বাসা- বাড়ি,দোকানে বসে থাকা যায় না, কাস্টমাররাও আসতে চায় না। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।” ​
পরিবেশবিদদের মতে, সড়কের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গার পাশে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ আইন ও জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী। দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই বর্জ্য অপসারণ ও স্থায়ী ল্যান্ডফিল তৈরি করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। ​ তবে যতদিন না স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে, ততদিন সড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণ করে বিকল্প কোনো স্থানে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স

শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স

 

অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী শুক্রবারই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগের খবরটি সামনে এলো।

প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন। একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবারই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। তবে বিষয়টির স্পর্শকাতরতার কারণে তথ্যদাতা সূত্রগুলোর কেউই নাম প্রকাশ করতে সম্মত হননি।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির মতামত জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রদের থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য মেলেনি।

নতুন করে রাজনৈতিক চাপ

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারান প্রায় ১,৪০০ মানুষ। সম্প্রীতি ভারত থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানালে, তাঁর আমলের শেষ মিত্রকেও পদ থেকে অপসারণের জন্য বর্তমান সরকারের ওপর সর্বসাধারণের চাপ বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক ও আলঙ্কারিক। রাষ্ট্রের মূল নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা।

অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন কে?

২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করবেন।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী।

সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, টুঙ্গিপাড়ার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে এমপি এস এম জিলানী

ছাইম খান গোপালগঞ্জ (টুঙ্গিপাড়া) :
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, টুঙ্গিপাড়ার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে এমপি এস এম জিলানী

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। রোববার সকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের চিত্র শুনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে বর্ষা মৌসুম এলেই গ্রামের কবরস্থান, মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়ক এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দুই শতাধিক পরিবার বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেক বাড়িতে রান্নাবান্নাও ব্যাহত হয়। আর্থিক সংকটের কারণে অধিকাংশ পরিবার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পেরে কষ্টের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে তারা বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে আবেদন করলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

সম্প্রতি গণমাধ্যমে এলাকাটির দুর্ভোগের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। এরই ধারাবাহিকতায় সংসদ সদস্য এস এম জিলানী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান এবং সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

 

পরিদর্শনের সময় টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ, সড়ক উঁচু করা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।