খুঁজুন
, ,
আজঃ ,
শিরোনাম
প্রতিবেদন প্রকাশের পর আলোচনার কেন্দ্রে তরুণ রেফারি নাহিদ, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট থেকে আসছে আমন্ত্রণ নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​ শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, টুঙ্গিপাড়ার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে এমপি এস এম জিলানী কৃষকদলের ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু প্রথম চারা রোপণ করলেন এমপি জাহাঙ্গীর আলম নাসিরনগরে ১২ হাজার টাকার জালনোট সহ গ্রেফতার -১ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পর কী কী সরকারি সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন? জানুন আইনে যা আছে রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখ নিয়ে জোর আলোচনা বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ! নাসিরনগরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন উপহার চিরিরবন্দরে প্রধান অতিথি হুইপ আখতারুজ্জামান ​চিরিরবন্দরে ১১ হাজার ভোল্টের লাইনে কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু হরিরামপুরে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্যের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নাসিরনগর গুনিয়াউকে সড়ক উন্নয়ন  কাজের উদ্বোধন করেন এমপি এম এ হান্নান। স্মার্ট ব্যাংকিংয়ের নতুন দিগন্ত রানীরবন্দরে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলা কিউআর’ চালু ডিজিটাল কৃষির নতুন দিগন্ত চিরিরবন্দরে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরা হলো না কিশোর তসলিমের চিরিরবন্দরে ট্রাক চাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু দিন বদলেছে মাঝি বদলেছে; থামেনি বর্ণি বাওড়ের খেয়া পারাপার মানিকগঞ্জে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার: প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নাসিরনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উদযাপন নিজাম শেখ পরিবারকে ঘিরে মামলায় উঠছে নানা প্রশ্ন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি চিরিরবন্দরে আলোচনা সভা ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালিত নাসিরনগরে সিঁড়িতে পড়ে ছিল নবজাতক খোঁজ নেই মা-বাবার মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর প্রশাসনের দ্বারস্থ ! দিনাজপুরে শিক্ষামন্ত্রীর “পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ  শিবালয়ে বসতভিটার মাটি কাটার অভিযোগ; ঘরবাড়ি ভেঙে নিঃস্ব প্রায় পরিবার চিরিরবন্দরে মাদকবিরোধী অভিযান ৩ মাদকসেবীর কারাদন্ড ও অর্থদন্ড বিল দিতে না পারায় মৃত সন্তানের মাকে আটকে রাখল ল্যাম্ব হাসপাতাল, ইউএনও-র হস্তক্ষেপে মুক্তি! নাসিরনগরে চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডি নতুন সভাপতি সায়মা আক্তার আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ বিতর্ক: ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা পাবিপ্রবির কণ্ঠস্বর আবৃত্তি দলের নেতৃত্বে সাজ্জাদুর রহমান ও রওনাক নোশিন নেহা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিপুল জয়: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদসহ শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিপুল জয়: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদসহ শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিপুল জয়: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদসহ শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত দেশের শাসন কাঠামোয় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দ্বার খুলে দিয়েছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোট। ভোটারদের বিপুল সমর্থনে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় সংবিধান সংশোধন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার গণভোটে অংশ নেন। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। ফলে বড় ব্যবধানে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন জুলাই সনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষে বিভক্ত করা। বিদ্যমান নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে গঠিত হবে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার সংবিধান সংশোধনের পর সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে। এটি সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি থাকলেও ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর ফলে জাতীয় সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বর্তমান বিধান অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয়। নতুন সংশোধনীতে অর্থবিল ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য সব বিলে সংসদ সদস্যরা দলীয় অবস্থানের বাইরে ভোট দিতে পারবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করা হবে। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে অথবা ভেঙে গেলে ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে ৯০ দিন, বিশেষ পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট নতুন বিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মৌলিক অধিকার খর্ব না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও অভিশংসন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালট চালু হবে এবং উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ নিয়োগ নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে পৃথক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে। মৌলিক অধিকার ও নতুন সংযোজন সংবিধানে বিদ্যমান ২২টি মৌলিক অধিকারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। নাগরিক পরিচয় ‘বাঙালি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশি’ করার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষার স্বীকৃতিও যুক্ত করা হয়েছে। বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট জুলাই সনদের কয়েকটি ধারায় বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে, বিশেষ করে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি না থাকার বিধান এবং কিছু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে গণভোটে জনগণের রায়ে প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগোবে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দেশের ইতিহাসে এটি চতুর্থ গণভোট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই গণভোট সরকারের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হলে পুরো সনদের আইনি ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারত। বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে, যা ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিপুল জয়: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদসহ শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত

দেশের শাসন কাঠামোয় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দ্বার খুলে দিয়েছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোট। ভোটারদের বিপুল সমর্থনে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় সংবিধান সংশোধন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার গণভোটে অংশ নেন। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। ফলে বড় ব্যবধানে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন

জুলাই সনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষে বিভক্ত করা। বিদ্যমান নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে গঠিত হবে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার

সংবিধান সংশোধনের পর সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে। এটি সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি

বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি থাকলেও ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর ফলে জাতীয় সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন

বর্তমান বিধান অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয়। নতুন সংশোধনীতে অর্থবিল ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য সব বিলে সংসদ সদস্যরা দলীয় অবস্থানের বাইরে ভোট দিতে পারবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করা হবে। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে অথবা ভেঙে গেলে ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে ৯০ দিন, বিশেষ পরিস্থিতিতে তা আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট

নতুন বিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মৌলিক অধিকার খর্ব না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও অভিশংসন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালট চালু হবে এবং উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ নিয়োগ

নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে পৃথক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে।

মৌলিক অধিকার ও নতুন সংযোজন

সংবিধানে বিদ্যমান ২২টি মৌলিক অধিকারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। নাগরিক পরিচয় ‘বাঙালি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশি’ করার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষার স্বীকৃতিও যুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট

জুলাই সনদের কয়েকটি ধারায় বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে, বিশেষ করে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি না থাকার বিধান এবং কিছু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে গণভোটে জনগণের রায়ে প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগোবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দেশের ইতিহাসে এটি চতুর্থ গণভোট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই গণভোট সরকারের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হলে পুরো সনদের আইনি ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারত।

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে, যা ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর আলোচনার কেন্দ্রে তরুণ রেফারি নাহিদ, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট থেকে আসছে আমন্ত্রণ

ছাইম খান গোপালগঞ্জ (টুঙ্গিপাড়া) :
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
প্রতিবেদন প্রকাশের পর আলোচনার কেন্দ্রে তরুণ রেফারি নাহিদ, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট থেকে আসছে আমন্ত্রণ

 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের উদীয়মান ফুটবল রেফারি নাহিদ শেখকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঠে তার নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন, আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসার বিষয়গুলো সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের একজন সম্ভাবনাময় রেফারিকে সংবাদে তুলে ধরার জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন সাংবাদিক জসিম মুন্সী।

সংবাদটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই নাহিদ শেখের কাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনার আমন্ত্রণ আসতে শুরু করেছে। হঠাৎ করেই ব্যাপক পরিচিতি পাওয়ায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নাহিদ শেখ বলেন, “আমার কাজকে গুরুত্ব দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক জসিম মুন্সী ভাইয়ের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তার প্রতিবেদনের মাধ্যমেই অনেক মানুষ আমাকে চিনতে পেরেছেন এবং আমার প্রতি আস্থা প্রকাশ করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ফুটবল আমার ভালোবাসার জায়গা। সেই ভালোবাসা থেকেই আমি রেফারির দায়িত্ব পালন করি। পারিশ্রমিকের চেয়ে খেলাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে যা দেন, সেটুকুতেই আমি সন্তুষ্ট।”

ভবিষ্যতে দেশের পেশাদার ফুটবলে একজন দক্ষ ও স্বীকৃত রেফারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নের কথাও জানান নাহিদ। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের বিশ্বাস, এমন নিবেদিতপ্রাণ ও মেধাবী তরুণদের যথাযথ সুযোগ ও উৎসাহ দেওয়া হলে তারা একসময় জাতীয় পর্যায়েও সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​

নাসিরনগরে বিভন্ন সড়কের পাশে ও  ময়লার স্তূপ: তীব্র দুর্গন্ধ বাড়ছে জনদুর্ভোগ ​

উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্থাপনা  বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে ও সড়কের পাশে ও জনসাধারণের চলাচলে রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা।
উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যস্ততম সড়কের পাশেই বর্জ্যের উন্মুক্ত স্তূপ তৈরি হওয়ায় একদিকে যেমন তীব্র দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়াও   আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়ায় মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ​
নাসিরনগর উপজেলার সদরে  এখন পর্যন্ত কোনো নিজস্ব বা স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা গড়ে ওঠেনি। ফলে  উপজেলায় প্রতিদিনের বাজার ও গৃহস্থালির টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে ঢ সড়কের পাশে এবং বাইপাস এলাকার খালি জায়গায়। ​
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার পাশে স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন  ও ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রী এবং চালকদের নাক-মুখ চেপে এই এলাকা পার হতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়কের পাশে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকায় নানাবিধ চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ​ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; সড়কের পাশের এই ময়লার স্তূপের আকার কমাতে প্রায়শই স্থানীয়রা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়া সড়কে ও বাসা বাড়িতে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র গতির এই সড়কে ধোঁয়ার কারণে চালকদের সামনের পথ দেখতে মারাত্মক বেগ পেতে হয়, যা যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালকেরা। ​এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাসিরনগরে ময়লা ফেলার কোন জায়গা নেই। প্রতিদিন বাজারের সব আবর্জনা এনে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে বাসা- বাড়ি,দোকানে বসে থাকা যায় না, কাস্টমাররাও আসতে চায় না। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।” ​
পরিবেশবিদদের মতে, সড়কের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গার পাশে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ আইন ও জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী। দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই বর্জ্য অপসারণ ও স্থায়ী ল্যান্ডফিল তৈরি করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। ​ তবে যতদিন না স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে, ততদিন সড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণ করে বিকল্প কোনো স্থানে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স

শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স

 

অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী শুক্রবারই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগের খবরটি সামনে এলো।

প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন। একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবারই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। তবে বিষয়টির স্পর্শকাতরতার কারণে তথ্যদাতা সূত্রগুলোর কেউই নাম প্রকাশ করতে সম্মত হননি।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির মতামত জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রদের থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য মেলেনি।

নতুন করে রাজনৈতিক চাপ

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারান প্রায় ১,৪০০ মানুষ। সম্প্রীতি ভারত থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানালে, তাঁর আমলের শেষ মিত্রকেও পদ থেকে অপসারণের জন্য বর্তমান সরকারের ওপর সর্বসাধারণের চাপ বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক ও আলঙ্কারিক। রাষ্ট্রের মূল নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা।

অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন কে?

২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করবেন।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।