খুঁজুন
, ,
আজঃ ,
শিরোনাম
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ চিরিরবন্দরে ৩ মাসব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চিরিরবন্দরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হুইলচেয়ার ভাঙা, জীবন স্থবির: চিরিরবন্দরে সহায়তার আকুতি প্রমথ রায় ​বৃষ্টিতে ভিজে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা উদ্বোধন করলেন হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া MP ​সাফল্যের শিখরে উত্তরবঙ্গের সেরা প্রতিষ্ঠান,এসএসসি ২০২৬-এর সেরা ফলাফলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিনন্দন অন্য ডাক্তারের প্যাডে চলত চিকিৎসা, চিরিরবন্দরে ভূয়া ডাক্তার গ্রেফতার,ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আমজাদ হোসেন ট্রাস্টের অধীনে রোবোটিক্স ক্লাবের যাত্রা শুরু, যুক্ত হলো স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতি চিরিরবন্দরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত  ​২০২৭ সাল থেকে দেশ জুড়ে সব প্রাথমিকে মিলবে টিফিন, জানালেন ববি হাজ্জাজ চিরিরবন্দরে ভ্রাম্যমান আদালেত যুবকের কারাদণ্ড ও জরিমানা রাইস মিলে ২১৭ বস্তা অবৈধ সার, অসাধু ব্যবসায়ী আ.লীগ নেতা গ্রেফতার ২৪শে আগষ্ট ইয়াসমিন হত্যা দিবস চিরিরবন্দরে বিজ্ঞান মেলা তরুণদের উদ্ভাবনে নতুন সম্ভাবনার আলো ​দিনাজপুরের আমবাড়ী দৌলতপুরে ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সাপের বিষ উদ্ধার, আটক ৪ চিরিরবন্দরে মাল্টি-স্টেকহোল্ডার কমিটির সদস্যদের দিনব্যাপী স্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রশিক্ষণ ​ফুলবাড়ীতে বাসের চাপায়,শিশু স্কুলছাত্রী নিহত, আড়াই ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্র দলের কর্মসূচি ঘুষ ছাড়া মিলছিল না সেবা,দিনাজপুরের ভূমি অফিসের তহশিলদারসহ ৩জন গ্রেফতার দিনাজপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ আরোহী নিহত চিরিরবন্দরে ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ আহত ১২ জন, থানায় মামলা দায়ের দিনাজপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে উদ্বোধন,আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নাহিদের কড়া বার্তা তানজিদের সেঞ্চুরিতে মুগ্ধ ওয়াহ-পন্টিং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস আমার উপজেলা, আমার দায়িত্ব শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু মুক্ত টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কায় নিভে গেল দুই তাজা প্রাণ চিরিরবন্দরে বার্ষিক পুষ্টি কর্ম-পরিকল্পনা সভা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ ​ চিরিরবন্দরে বার্ষিক পুষ্টি কর্ম-পরিকল্পনা সভা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ ​মো: মোস্তাকিম আল-হাসনাত, দিনাজপুর প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শিবলী সাদিকের বিশ্বস্ত আব্দুস সবুর(তপন) অবাধে সক্রিয় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার কমলেও শিক্ষা নগরি চিরিরবন্দরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চমক অব্যাহত। মো: মোস্তাকিম আল হাসনাত,দিনাজপুর। এবারের এসএসি ২০২৬ এর ফলাফলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশে নেমে এলেও ব্যতিক্রম “শিক্ষা নগরী” চিরিরবন্দর। বোর্ডের গড়ের চেয়ে অনেক বেশি পাসের হার ও জিপিএ-৫ নিয়ে ফের আলোচনায় উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে পাশের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। চলতি বছর পাশের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে পাশের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ কমেছে, পাশাপাশি বেড়েছে শূন্য ফলাফল করা স্কুলের সংখ্যা কিন্তু এর মধ্যেই ব্যতিক্রম চিরিরবন্দর উপজেলার ১০টি পরিচিত স্কুলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১৮৮ জন গড় পাসের হার ৮৮.৮৫ শতাংশ যা বোর্ডের গড়ের চেয়ে ৩০.০৮ শতাংশ বেশি। সরকারী বেসরকারী মোট ১০টি স্কুলের এবারের ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ১৩৩৭ জন পরিক্ষার্থী মধ্যে ৮৮.৮৫ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ১১৮৮ জন পরিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯৪ জন পরিক্ষার্থী। আইডিয়াল রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে ২৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪২ জন পরীক্ষার্থী, আমেনা-বাকী রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২১৭ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০২জন পরীক্ষার্থী, মেহের-হোসেন রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৩ জন পরীক্ষার্থী , সিটি রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর ৭১ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৫ জন পরিক্ষার্থী। পিছিয়ে নেই সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুল গুলিও আলোকডিহি জান বক্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৫৯ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯.৫৩ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ২০৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন পরিক্ষার্থী, কালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮.০৬ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ১১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন পরিক্ষার্থী, চিরিরবন্দর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯২ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩.৯১ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৬ও জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন পরিক্ষার্থী, আমতলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯২ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে ৭৮.২৬ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৭২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন পরিক্ষার্থী, দক্ষিণ পলাশবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৬ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭.৬৩ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৫৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন পরিক্ষার্থী, হাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮০ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৬.২৫ শতাংশ পাশের হার নিয়ে পাশ করেছে ৬১ জন পরিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন পরিক্ষার্থী। মেহের-হোসেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “বোর্ডের ফল খারাপ হলেও আমরা আমাদের মান ধরে রেখেছি। সারা বছর মডেল টেস্ট, দুর্বলদের আলাদা কেয়ার আর অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগের কারণে এই ধারাবাহিকতা।” সিটি রেসিন্ডেসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন ,” এবারের প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিবেশ তুলনামুলক কঠিন হলেও চিরিরবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা আবাসিক অনাবাসিক স্কুলগুলোর কঠোর মনিটরিং ও পড়াশোনার পরিবেশের কারণেই এই সাফল্য।” চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, “বোর্ডে যখন পাসের হার কমেছে, তখন আমাদের উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করেছে এটা আমাদের জন্য গর্বেরই, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিশ্রম ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহই এই ধারাবাহিক সাফল্যের কারণ সেইসাথে কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো কলেও বেশকিছু স্কুল আশানুরূপ ফলাফল করতে পারে নাই। আমরা এই স্কুলগুলিতে বিশেষ মনিটরিং এর করবো যাতে করে আমরা এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও ভালো ফলাফল বের করে আনতে পারি সেই চেষ্টাই করবো “। শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা দেওয়ার প্রতিবাদে হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মো: মোস্তাকিম আল- হাসনাত দিনাজপুর, শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হতে শুরু করেন। পরে সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হলে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রভাব বা সুপারিশনির্ভর হওয়া উচিত নয়। একজন শিক্ষকের যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার মান ধরে রাখতে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শিক্ষকরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শিক্ষক নিয়োগে সামান্য অনিয়মও দীর্ঘমেয়াদে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হলে তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষার পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি উঠে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও একটি যোগ্য প্রজন্ম গড়ে তুলতে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত রেখে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা। রাতের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে প্রার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড।

পাবনায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পাবনা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
পাবনায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ছবিঃ অনলাইন ডেস্ক

পাবনায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

মাদকমুক্ত সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাঠে থাকার কথা যাদের, সেই পাবনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই উঠেছে সাপ্তাহিক চাঁদা গ্রহণের বিস্ফোরক অভিযোগ। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক টাকা নিয়ে তাদের ব্যবসা চালাতে সহায়তা করা হচ্ছে—আর সেটি চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মহেন্দ্রপুর, বলরামপুর, সাধুপাড়া, দিলালপুর টেকনিক্যাল মোড় ও টেবুনিয়া—এই এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে একধরনের “চাঁদা-নির্ভর মাদক ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক” তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। সূত্র জানায়—মহেন্দ্রপুরের একজন হিরোইন ব্যবসায়ী সাপ্তাহিক ৩,০০০ টাকা, একই এলাকার গাঁজা ব্যবসায়ী আলম ২,০০০ টাকা, আরেকজন আখি ৪,০০০ টাকা দেন। বলরামপুরে ‘বিন্দু মাসি’ নামে পরিচিত নারী মাদক ব্যবসায়ী allegedly সাপ্তাহিক ৫,০০০ টাকা পরিশোধ করেন। সাধুপাড়ার রুমনের স্ত্রী মুন্নির কাছ থেকে নেওয়া হয় ৪,০০০ টাকা। দিলালপুর টেকনিক্যাল মোড় ও টেবুনিয়ার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২,০০০ টাকাসহ পাবনার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দুই থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিয়ে থাকেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—এই টাকার বড় অংশ লেনদেন হয় পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ফারুক স্টোরের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে। স্থানীয়দের দাবি, এই পদ্ধতিতে অর্থ লেনদেন করলে অনেক সময় প্রমাণ রেখে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না, আর সেই সুযোগই ব্যবহার করছে চক্রটি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী—এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পাবনার কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। যাদের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা গেছে তারা হলেন—এএসআই কামরুজ্জামান সাগর, এএসআই মিনা পারভিন, সিপাই রাসেল এবং এসআই জামালুর রহমান। অভিযোগকারীরা বলছেন, এই কর্মকর্তাদের ‘মৌন সম্মতি’তে মাদক ব্যবসাগুলো বাধাহীনভাবে চলছে, আর ব্যবসায়ীরাও এই নিয়মিত চাঁদা দিয়ে নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,মানুষের মাঝে প্রচণ্ড হতাশা আর ক্ষোভ।

একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, যারা মানুষের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাবে, যদি তারাই টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষা করে,তাহলে আমরা ন্যায়বিচার চাইতে কোথায় যাব? মাসের পর মাস কোনো বড় অভিযান নেই, কিন্তু টাকার লেনদেন থেমে নেই। এটা মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ।

অভিযোগ আরও আছে—মাদকবিরোধী অভিযান যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর করে দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও অভিযান নেই, তৎপরতা নেই, নেই কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি অভিযোগের দিকেই ইঙ্গিত করে।

বিকাশ এজেন্টের লেনদেন ঘিরে আরও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় অনুসন্ধানে দেখা যায়,সেখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন লোকজনের আসা–যাওয়া, লেনদেনের ধরনও অস্বাভাবিক। অনেক লেনদেন নগদ জমা, আর ব্যবহার করা ফোন নম্বরগুলোর বেশিরভাগই অনুসন্ধানে ট্রেস করা কঠিন হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই নীরবতায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি জনমনে অনাস্থাও বাড়ছে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন,এই অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তবে এটি শুধু দুর্নীতি নয়; বরং মাদকবিরোধী সংগ্রামকে ধ্বংস করার মতো গুরুতর অপরাধ। তাদের দাবি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের স্বচ্ছ তদন্ত, অভিযুক্তদের লেনদেন-তথ্য যাচাই, এবং দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান পুনরায় চালু করা।

এই পরিস্থিতিতে পাবনার মানুষ একটাই কথা বলছেন,
মাদক নির্মূলের দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা যদি নিজেই মাদক ব্যবসার অংশে পরিণত হন, তবে সমাজকে রক্ষা করবে কে?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ চিরিরবন্দরে ৩ মাসব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ চিরিরবন্দরে ৩ মাসব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬: চিরিরবন্দরে ৩ মাসব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

​মো: মোস্তাকিম আল- হাসনাত(দিনাজপুর) 

দেশ ব্যাপী কর্মসূচি অনুযায়ী  দিনাজপুরের চিরিরবন্দরেও উৎসবমুখর ও সচেতনতামূলক আমেজে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। এ উপলক্ষে আগামী তিন মাসব্যাপী বিস্তৃত এক বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
​শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুম ‘ইছামতি’তে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সারাদেশে এই অভিযানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই চিরিরবন্দর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রমের সূচনা ঘটে।
​তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ও প্রজননস্থল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা, বসতবাড়ি ও প্রাতিষ্ঠানিক আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সর্বাত্মক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
​উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফতেহা তুজ জোহরা-র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
শাহানা আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি)
জোহরা সুলতানা, উপজেলা কৃষি অফিসার
মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডা. আরিফা পারভীন, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন
মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা আইসিটি অফিসার
মেজবাউল ইসলাম, আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য, উপজেলা বিএনপি
আব্দুল ওহাব , চেয়ারম্যান, নশরপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ইকবাল কাজী​, চেয়ারম্যান, অমরপুর ইউনিয়ন পরিষদ
​অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। কোনো স্থানে যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে এবং আশপাশের পরিবেশ যেন পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, সে বিষয়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়।

 

চিরিরবন্দরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
চিরিরবন্দরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত

চিরিরবন্দরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত

​মো: মোস্তাকিম আল- হাসনাত (দিনাজপুর) 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

​দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালীতে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহানা আফরোজ।

​উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিনারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদার রহমান, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, উপজেলা রিসোর্স ইন্সট্রাক্টর ফিরোজ হোসেন খান, সহকারি অধ্যাপক মেছবাহুল ইসলাম এবং সহকারি শিক্ষা অফিসার জাহান ই গুলশান আরা।

​উক্ত আলোচনা সভা ও র্যালীতে স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হুইলচেয়ার ভাঙা, জীবন স্থবির: চিরিরবন্দরে সহায়তার আকুতি প্রমথ রায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
হুইলচেয়ার ভাঙা, জীবন স্থবির: চিরিরবন্দরে সহায়তার আকুতি প্রমথ রায়

হুইলচেয়ার ভাঙা, জীবন স্থবির: চিরিরবন্দরে সহায়তার আকুতি প্রমথ রায়

মো: মোস্তাকিম আল- হাসনাত (দিনাজপুর) 

​একসময় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন, স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম আঘাতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার প্রমথ রায় আজ অন্যের সাহায্য ছাড়া এক পা-ও চলতে পারেন না। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ঘরের কোণে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

​চলাফেরার একমাত্র অবলম্বন একটি পুরোনো হুইলচেয়ার, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। কখনো সেটিতে ভর দিয়ে ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কখনো নষ্ট হুইলচেয়ারটার দিকে তাকিয়েই কাটে তাঁর দিন।

​পরিবারের চরম আর্থিক অনটনে যেখানে চিকিৎসা ও সংসারের নিত্যদিনের খরচ চালানোই অসম্ভব, সেখানে একটি নতুন হুইলচেয়ার কেনা তাঁদের জন্য স্বপ্নাতীত। প্রমথ রায়ের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী আগে কত কাজ করতেন, নিজের পায়ে চলতেন। এখন তাকে সরাতেও কষ্ট হয়। হুইলচেয়ারটাও নষ্ট। একটা ভালো হুইলচেয়ার পেলে অন্তত তাকে একটু স্বস্তি দিতে পারতাম।”

​হাঁটতে না পারার চেয়েও প্রমথ রায়ের বড় কষ্ট—নিজের প্রতিটা প্রয়োজনে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একটি নতুন হুইলচেয়ার হয়তো সামান্য এক সহায়তা, কিন্তু তাঁর জন্য তা চার দেয়ালের বাইরে যাওয়া, চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো এবং কিছুটা হলেও আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার সুযোগ।

​সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারটির আকুল আবেদন—একটি হুইলচেয়ার বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে অসহায় এই মানুষটির পাশে দাঁড়ান।

  • সহায়তা দিতে যোগাযোগ করুন: ০১৭৭৪০২৬২২৭